রাজ্য পুলিশের ডিজি পদ থেকে অবসর নিয়েছেন রাজীব কুমার। তাঁকেই এ বার রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককেও রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে শাসকদল। এ ছাড়াও, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী এবং রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বাড়ি; ভোটার লিস্ট বেরোনোর আগেই ভূমিকম্প রাজ্যে
শুক্রবার সন্ধ্যায় চারজনের নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সমাজমাধ্যমে চারজনের নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল। সেই তালিকায় রয়েছেন সদ্য প্রাক্তন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার। এর আগেও একাধিক আইপিএস আধিকারিক নির্বাচনে লড়েছেন। রাজ্যসভাতেও গিয়েছেন। রাজ্যের মন্ত্রীও হয়েছেন। তবে রাজীব কুমার একটু আলাদা। কারণ তিনি কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার ছিলেন। দীর্ঘদিন রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন। একাধিক বিতর্কে নাম জড়িয়েছে তাঁর। এ বার তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজ্যসভায় যাচ্ছেন গায়ক বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বর্তমানে বালিগঞ্জের বিধায়ক। রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি দফতরের প্রতিমন্ত্রীও। তিনি বিজেপি থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন। ২০২১ সালে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে বিধানসভায় যান। তবে আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করবে না তৃণমূল তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছিলই। আর তাতেই সিলমোহর পড়ল। তিনি তৃণমূলের হয়ে এ বার রাজ্যসভায় পা রাখতে চলেছেন।
আবার মেনকা গুরুস্বামীকে রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেনকা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সম্প্রতি তিনি আইপ্যাক মামলায় তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেছিলেন। আবার এসআইআর-এর মামলা চলাকালীনও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বাবা মোহন গুরুস্বামী। মোহন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিংহের পরামর্শদাতা ছিলেন। আরএসএসের সংগঠন স্বদেশি জাগরণ মঞ্চের নেতা ছিলেন। তাঁর মেনকাকে এ বার রাজ্যসভায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুনঃ সাবধানতা অবলম্বন করুন, কলকাতায় তীব্র ভূমিকম্প হলে কি করবেন?
এ ছাড়াও, বাংলা সিনেমা জগতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিককে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে রাজ্যের শাসকদল। কোয়েল মল্লিককে একাধিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে এমন জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বিশেষ বার্তা দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যসভার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন মৌসম বেনজির নূর। তৃণমূল ছেড়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ফলে সেই আসনটি শূন্য রয়েছে। মৌসম ছাড়া তৃণমূলের তিন রাজ্যসভার সাংসদ সকেত গোখলে, সুব্রত বক্সী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল। সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যেরও একই দিনে মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই পাঁচ আসনেই ১৬ মার্চ নির্বাচন হবে।
বিধানসভায় বর্তমানের আসন সংখ্যার নিরিখে পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনেই তৃণমূলের প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার কথা। একটি আসনে জয়ী হওয়ার কথা বিজেপির। যদি একটি আসনে পাঁচের বেশি প্রার্থী দেওয়া হয় তাহলে ভোটাভুটির প্রয়োজন হবে।









