spot_img
Tuesday, 10 March, 2026
10 March
spot_img
Homeদক্ষিণবঙ্গGandhi Punya Diwas: রাতের তারা ও দিনের আলো, দুই মহাত্মার মিলন

Gandhi Punya Diwas: রাতের তারা ও দিনের আলো, দুই মহাত্মার মিলন

আজাদ ১৯৫১ সালে 'বিশ্বভারতী'কে কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে এনে 'গুরুদেব'এবং 'মহাত্মা'র শেষ ইচ্ছার মর্যাদা দিয়েছেন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.




আজ ১০ মার্চ; আজকের দিনটি শান্তিনিকেতনে ‘গান্ধি পুণ্যাহ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। গান্ধি ও রবীন্দ্রনাথ, এই দুই মহাত্মার জীবনাদর্শের সংশ্লেষে আশ্রমিকদের দৈনিক দিনযাপন ও কর্মপ্রণালীতে যে পরিবর্তন আসে , এ দিনটি তারই স্মারক।

গান্ধি তাঁর জীবনাদর্শ ও কর্ম সাধনার সমগ্ৰতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে “মহাত্মা” হয়ে উঠৈন, আর রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রতিভা এবং অবদানের গুরুত্বে হন গান্ধিজির পূজনীয় “গুরুদেব”। গভীর বিশ্বাস, অন্তর্লীন শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার পারস্পরিকতায় উভয়ের সম্পর্ক ঝর্ণার নির্মল বারিধারার মতোই স্বতঃস্ফূর্ত ও প্রাণসম্পদে ভরপুর ছিল। অবশ্য গান্ধিজির মত ও পথের সবটুকু রবীন্দ্রনাথ মেনে নিতে পারেননি। প্রবন্ধে ও উপন্যাসে মতভিন্নতা ও দূরত্বের কথা উহ্যও রাখেননি। যা মানতে পারেননি বা যেটুকু  তাঁর গ্ৰহণীয় মনে হয়নি, তা জানাতে তিনি ছিলেন নির্দ্বিধ। গান্ধিজিও গুরুদেবের সব মতামতকে মান্যতা দেননি। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও পরামর্শ অসঙ্গত মনে হলে তা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবু দুজনের সম্পর্কের নিবিড়তায় বা সম্ভ্রমের একাত্মতায় তা বিরূপ আঁচড় কাটেনি কোনোদিন। এই লেখাটি রবীন্দ্র-গান্ধির রাজনৈতিক দর্শন বা তাঁদের সম্পর্কের রসায়ন নিয়ে নয়, গান্ধিজির কয়েকবারের শান্তিনিকেতন দর্শন বিষয়ে।

আরও পড়ুনঃ আগুন মধ্যবিত্তদের হেঁসেলে; তুঙ্গে ইন্ডাকশনের চাহিদা

গান্ধিজি শান্তিনিকেতন আশ্রম অঙ্গনে প্রথম পা রাখলেন ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯১৫। সেইসময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর গড়া ‘ফিনিক্স’ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের রবীন্দ্রনাথের অনুমতিক্রমে অধ্যাপক অ্যান্ড্রুজের সহযোগিতায় শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমে রেখে পড়ানোর ব্যবস্থা হয়েছিল। ‘নোবেল’-এর পর, রবীন্দ্রনাথের বিশ্ব বিজয়ও তখন সমাপ্ত। গান্ধি কিন্তু তখনও বিশ্ব ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেননি। তিনি এলেন তাঁর ছাত্রদের দেখতে। তাঁকে অভ্যর্থনার জন্যে তোরণ তৈরি হলো, আলপনা আঁকা মাটির আসন, বেদি বানানো হলো। বৈদিক রীতি মেনে বেদির চার কোণে কলাগাছ, আমের পল্লব , পদ্মফুল-সহ জলপূর্ণ মাটির ঘট। রবীন্দ্রনাথ আশ্রমে ছিলেন না। কিন্তু তার জন্যে গান্ধিজিকে বরণ করে নেওয়ায় বিন্দুমাত্র ত্রুটি হলো না। বোলপুর স্টেশনে শিক্ষার্থী, আশ্রমিকদের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনায় অভিসিঞ্চিত মহাত্মা গাড়ির বদলে পায়ে হেঁটে সস্ত্রীক শান্তিনিকেতনে পৌঁছলে ফুল মালা চন্দন সিঁদুর, শাস্ত্রীয় সংগীত, স্তোত্র পাঠ, এস্রাজ ও সেতার বাদন আর পঞ্চপ্রদীপের আরতিতে তাঁদের ঘরে তোলা হলো। শান্তিনিকেতনী আন্তরিকতায় গান্ধিজি মোহিত, আপ্লুত, অভিভূত । প্রথম শান্তিনিকেতন দর্শনের আনন্দময় অভিজ্ঞতায় গান্ধিজি কানায় কানায় পূর্ণ ও প্রাণিত হলেন। রবীন্দ্রনাথের আশ্রমে ফেরা পর্যন্ত তিনি অবশ্য শান্তিনিকেতনে থাকতে পারলেন না । গোপালকৃষ্ণ গোখলের মৃত্যু সংবাদে তড়িঘড়ি  ফিরে গেলেন। কবির আশ্রমে এলেন, কবিকে পেলেন না, কিন্তু তাঁর অদৃশ্য উপস্থিতির মাধুর্য মর্মে গেঁথে নিয়ে ফিরলেন।

গান্ধিজির দ্বিতীয়বার শান্তিনিকেতনে আসা ৬ মার্চ, থাকলেন ১০ তারিখ পর্যন্ত। এবারে কবি ও মহাত্মা মুখোমুখি হয়েছেন, আলোচনাও হয়েছে, নানা সমস্যা, সংকট, আশ্রমের আদর্শ ও কর্মপ্রণালী নিয়ে। রবীন্দ্রনাথের ‘ব্রহ্মচর্যাশ্রম’ শিক্ষাদর্শে আশ্রমিকদের ‘স্বাবলম্বন’ আরও ব্যাপ্ত করতে রান্না করা, জল তোলা, বাসন মাজা, ঝাড়ু দেওয়া, এমন কি মেথরের কাজ পর্যন্ত তাদেরই করার পক্ষে গান্ধিজি। তিনি চাইলেও, আশ্রমের অনেক আচার্য এতদূর পর্যন্ত এগোতে আগ্ৰহী নন, যদিও রবীন্দ্রনাথের নিজের কোনো আপত্তি ছিল না। প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, অবশেষে, ১০ই মার্চ  “সে দিন প্রাতে পাচক, চাকর, মেথরদের ছুটি দিয়া   ও অধ্যাপকেরা সকল প্রকার কাজ আপনাদের মধ্যে ভাগাভাগি করিয়া লইয়া মহোৎসব করেন।”  তাই ১০ মার্চ দিনটি এখনো ‘গান্ধী পুণ্যাহ দিবস’ বলিয়া শান্তিনিকেতনে পালিত হয়।” ১০ মার্চের পর গান্ধিজিকে আসতে হয় ৩১ মার্চ অসুস্থ ছাত্র যাদবকে দেখতে। যাদবকে অবশ্য বাঁচানো যায়নি।

আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে কার্যকর হল ‘জরুরি’ আইন; বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

এর পর  গান্ধিজি আবার শান্তিনিকেতনে এলেন ১৯২৫ সালের ২৯ মে।  ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির দোতলায় তাঁদের থাকার ব্যবস্থা হয়। বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য অনুসারে অনুপম আলপনায় সুন্দর করে গৃহটি সাজিয়ে রেখেছিলেন প্রতিমা দেবী ও ক্ষিতিমোহন সেনের স্ত্রী কিরণবালা সেন। সেখান থেকে ‘উত্তরায়ণ’ গৃহ ••• রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে গান্ধিজির ঘণ্টা তিনেক একান্তে আলোচনা হলো। এত দীর্ঘ, গভীর ও নির্জন আলোচনার বিষয়বস্তু অবশ্য কেউ জানতে পারেননি। আলোচনার শেষে দুজনের চোখেমুখে অপরাহ্নের নিরাসক্ত ছায়া, নির্মল প্রশান্তি। সন্ধ্যায় উত্তরায়ণ প্রাঙ্গণে ‘চণ্ডালিকা’ নাটক দেখে গান্ধিজি মুগ্ধ,শিহরিত। ৩১ মে সকালে শ্রীনিকেতন পরিদর্শন, পরের দিন, ১ জুন সোমবার মৌনব্রত, এবং অবশেষে ২ জুন সকালে কলকাতা রওনা হয়ে গেলেন গান্ধিজি।

‘গুরুদেব’ রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায়, শেষবারের মতো গান্ধিজি শান্তিনিকেতনে এলেন ১৯৪০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি শান্তিনিকেতন ছেড়ে যাওয়ার আগে রবীন্দ্রনাথ গান্ধিজির হাতে একটি চিরকুট তুলে দিয়ে ছোট্ট অনুরোধ করেন—তাঁর অবর্তমানে বিশ্বভারতীর প্রতি গান্ধিজি যেন অমনোযোগী না হন। বিশ্বভারতীর দরকার তাঁর স্নেহদৃষ্টির। উত্তরে গান্ধিজি বলেন, বিশ্বভারতীকে তার স্বমহিমায় বাঁচিয়ে রাখার জন্যে তিনি যথাসাধ্য করবেন। ‘মহাত্মা’ রেখেছিলেন তাঁর কথা। ১৯৪৭-এর পর, দেশের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী আবুল কালাম আজাদকে চিঠিটি দিয়ে মহাত্মা তাঁকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার উপদেশ দিয়ে রাখ তখন অবশ্য রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধিজি দু’জনেই অস্তমিত। তাঁদের ব্যক্তিত্বের আলো নিভে গেছে। কিন্তু আশ্রমের আকাশময় উভয়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি, উদার মানবিকতায়, প্রবুদ্ধ জীবন দর্শনে এবং কর্মব্রতের একাগ্ৰতায়, দ্যুতিময়, দীপ্যমান রশ্মির মতো।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন