সালটা ২০২৬। নতুন বছরের শুরু থেকেই সমাজমাধ্যমে ঘোরাফেরা করছে এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা। বুলগেরিয়ার সেই রহস্যময়ী নারী বাবা ভাঙ্গা, যাঁকে ‘বলকানের নস্ত্রাদামুস’ বলা হয়, তাঁর এক ভবিষ্যদ্বাণী ঘিরে এখন সাধারণ মানুষের ঘুম উড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৬ সালে পৃথিবী এমন এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাক্ষী হবে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। বিশেষ করে এশিয়া এবং ইউরোপের একাংশ এক বিশাল ভূমিকম্পে তছনছ হয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ সাবধানতা অবলম্বন করুন, কলকাতায় তীব্র ভূমিকম্প হলে কি করবেন?
বাবা ভাঙ্গার অনুগামীদের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রকৃতির রোষ আছড়ে পড়বে স্থলভাগের ওপর। তাঁর করা ভবিষ্যদ্বাণীর নির্যাস হল-
পৃথিবীর প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ স্থলভাগ এই বছর ভূমিকম্প, সুনামি বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে এশীয় দেশগুলিতে (যার মধ্যে ভারতও পড়ে) কম্পনের মাত্রা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ভূমিকম্পই নয়, ২০২৬-এ চরম আবহাওয়া, বন্যা এবং খরার মতো পরিস্থিতি বাস্তুতন্ত্রকে আমূল বদলে দিতে পারে।
ভারত কি বিপদের মুখে? বাবা ভাঙ্গা সরাসরি ভারতের নাম না নিলেও, তিনি ‘পূর্বের দেশ’ এবং এশিয়ার ভূখণ্ডে বড় পরিবর্তনের কথা বলে গিয়েছেন। বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে ছোটখাটো কম্পন অনুভূত হচ্ছে, তাতে অনেকেই তাঁর এই আধ্যাত্মিক সতর্কবার্তাকে বিজ্ঞানের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। যদিও ভূতাত্ত্বিকদের মতে, ভূমিকম্পের নিখুঁত আগাম পূর্বাভাস দেওয়া অসম্ভব।
২০২৬ নিয়ে আরও কিছু শিউরে ওঠা ইঙ্গিত ভূমিকম্প ছাড়াও বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সালের জন্য আরও কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করে গিয়েছেন: ১. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মেঘ: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে এক ভয়াবহ যুদ্ধের সূচনা হতে পারে। ২. এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: মানুষের তৈরি প্রযুক্তি এবার মানুষেরই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ৩. এলিয়েন বা ভিনগ্রহী: ২০২৬-এর শেষে অর্থাৎ নভেম্বরে মহাকাশ থেকে কোনো মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, বাবা ভাঙ্গার কোনও লিখিত দলিল নেই। তাঁর অনেক কথাই মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে বলা হয়। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।









