২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বাজেট অধিবেশন। বিধানসভা সচিবালয় সূত্রে খবর, সপ্তদশ বিধানসভার এটিই শেষ অধিবেশন হতে চলেছে। ভোট অন অ্যাকাউন্ট বা অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের লক্ষ্য এই অধিবেশনকেই জনমানসে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে ব্যবহার করা।
আরও পড়ুনঃ ১৩১ বছর আগে আমেরিকাকে দেওয়া ফ্রান্সের উপহার! স্বাধীনতার প্রতীক লেডি লিবাটি
রীতি অনুযায়ী রাজ্য সরকারের বাজেট পেশ করার কথা অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের। তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন এক জল্পনা ডানা মেলা শুরু করেছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সচিবালয় সূত্রের ইঙ্গিত, এ বারও সেই একই নজির দেখা যেতে পারে। যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজে বাজেট পেশ করেন, তবে তা যে প্রশাসনিক গুরুত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও বিশেষ বার্তা বহন করবে, তা বলাই বাহুল্য।
যেহেতু সামনেই নির্বাচন, তাই এই অন্তর্বর্তী বাজেটকে স্রেফ নিয়ম রক্ষার দলিল হিসেবে দেখছে না নবান্ন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বড় কোনো কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে না হাঁটলেও, সাধারণ মানুষের পকেটে স্বস্তি দিতে পাঁচটি মূল ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে: ১. স্বাস্থ্য ও শিক্ষা: স্বাস্থ্যসাথী ও কন্যাশ্রী প্রকল্পে আরও বরাদ্দ। ২. লক্ষ্মীর ভান্ডার: মহিলাদের জন্য এই জনপ্রিয় প্রকল্পে নতুন কোনো চমক থাকতে পারে। ৩. সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান: নতুন কর্মসংস্থান এবং শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষায় বিশেষ জোর। ৪. গ্রামীণ উন্নয়ন: রাস্তাঘাট ও পানীয় জলের পরিকাঠামোয় বড় ঘোষণা।
আরও পড়ুনঃ নৃশংস ও বিভীষিকাময়, কলতলায় লাশ ধুচ্ছে যুবক! দিনহাটার ‘নরখাদক’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজেট অধিবেশন কার্যত শাসকদলের জন্য একটি ‘রিপোর্ট কার্ড’। তৃণমূল যেখানে তাদের গত পাঁচ বছরের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরবে, সেখানে বিরোধী শিবিরও পাল্টা রণকৌশল সাজাচ্ছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি পরিষদীয় দল নিয়োগ দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সরকারকে চেপে ধরতে প্রস্তুত।
সপ্তদশ বিধানসভার এই অন্তিম পর্বে শাসক ও বিরোধী, উভয় পক্ষের বিধায়কদের বাগযুদ্ধে বাংলার রাজনীতির উত্তাপ বিধানসভার অন্দরে নতুন করে বৃদ্ধি পেতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।









