রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান ছাপিয়ে এবার মানবিক পরিষেবায় নজর কাড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নন্দীগ্রামে শুরু হওয়া ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগের মাধ্যমেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করিয়ে নতুন জীবন দেওয়া হলো ২৩ জন স্থানীয় বাসিন্দাকে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই সাফল্যের কথা বিস্তারিতভাবে শেয়ার করেছেন সাংসদ নিজেই।
দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা এই মানুষগুলোর কাছে জীবন হয়ে উঠেছিল সীমাবদ্ধ। কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে বা অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে তাঁরা কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই অস্ত্রোপচার কেবল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি নয়, বরং ওই মানুষগুলোর স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের একটি মাধ্যম।
সেবার পরিসংখ্যানে ‘সেবাশ্রয়’
স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন হয়েছে।
ক্যাম্প ১: এখান থেকে ১৭ জন রোগীকে চিহ্নিত করা হয়।
ক্যাম্প ২: এখান থেকে বাছাই করা হয় আরও ৬ জনকে।
পরিষেবা: মোট ২৩ জন রোগীকে কল্যাণী আই কেয়ারে নিয়ে গিয়ে নিখরচায় অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে।
“স্বাস্থ্যসেবা খণ্ডিত হতে পারে না”: অভিষেক
গান্ধীজির আদর্শকে উদ্ধৃত করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “একটি সমাজের নৈতিক মূল্য প্রকাশ পায় সে যেভাবে তার সবচেয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায়।” তিনি আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা কেবল রোগ নির্ণয় বা ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলে না। রোগীকে শনাক্ত করা থেকে শুরু করে তাঁর সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকাই প্রকৃত পরিষেবা।
সাংসদ আরও লিখেছেন, ‘সেবাশ্রয়’ এমন এক নিরবচ্ছিন্ন ধারার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো নাগরিক অসুস্থতা এবং সঠিক চিকিৎসার মাঝপথে আটকে না পড়েন। এই মানবিক দায়বদ্ধতা আগামী দিনেও সমান গুরুত্ব ও দৃঢ়তার সাথে পালন করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
বিনামূল্যে এই উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে খুশি উপভোক্তা ও তাঁদের পরিবার। নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষ মনে করছেন, রাজনৈতিক চাপানউতোরের ঊর্ধ্বে উঠে এই ধরনের স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে।









