কড়া নাড়ছে বিধানসভা ভোট। রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত। আইপ্যাকে ইডি অভিযানের সময় এমনই জানিয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেই তালিকায় শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্তর নাম রয়েছে। কোনও কেন্দ্রীয় এজেন্সি নয়, রাজ সরকারের সিআইডির করা মামলায় অভিযুক্তকে প্রার্থী করতে চলেছে তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস নেই; আজ বৃহস্পতিবারে বাংলার আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আলোচিত ব্যক্তির নাম তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের সভাপতি। ব্যারাকপুরের নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তিনি প্রার্থী হতে চলেছেন বলে তৃণমূল সূত্রে খবর। দলের একাংশ তাঁকে প্রার্থী ধরে রণকৌশলও সাজাতে শুরু করেছেন। সম্প্রতি ব্যারাকপুরে সেবাশ্রয় ক্যাম্প করে তৃণমূল। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা গিয়েছে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। কেউ কেউ বলছেন, নোয়াপাড়ায় তৃণাঙ্কুরের জনসংযোগ বাড়াতেই সেবাশ্রয় ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। নোয়াপাড়ায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা বেশ সক্রিয়। মূলত সেই ভরসাতেই নোয়াপাড়ায় তৃণমূলের বাজি তৃণাঙ্কুর।
ছাত্র সংগঠনের সভাপতি তৃণাঙ্কুরের নাম জড়িয়েছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে। জিটিএ-তে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। ৩১৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল করেছে হাইকোর্ট। এই মামলার তদন্ত করছে সিআইডি। তাদের তৈরি অভিযুক্তদের তালিকায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছে বিনয় তামাংয়ের নাম। সেই সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য। এমন অভিযুক্তকে প্রার্থী করলে তো বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া! বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, “দুর্নীতি যে বঙ্গের ভোটে কোনও ইস্যু নয় তা স্পষ্ট। তাই সেসব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।” এদিকে তৃণমূলের অনেকে বলছেন, “অভিযুক্ত যে কেউ হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে দোষী বলা যায়।”
আরও পড়ুনঃ “হাল ছেড়ো না বন্ধু”; গিটার ছেড়ে পতাকার ঝান্ডা অরিজিৎ-এর!
নোয়াপাড়ার বিধায়ক মঞ্জু বসু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্দিনের সৈনিক। মাঝে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়। মঞ্জু বসুর বিজেপি-যোগের কথাও জানা যায়। সেটা ২০১৮ সাল। নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেনি তৃণমূল। সেই সময় তৃণমূলের টিকিটে জেতেন সুনীল সিং। বছর দেড়েক পর সুনীলই বিজেপিতে যোগ দেন। একুশের ভোটে পদ্মের প্রার্থীও হন। তৃণমূলের সেই মঞ্জু বসুর কাছে তাঁকে হারতে হয়। তৃণমূল সূত্রে খবর, বার্ধক্যজনিত কারণে মঞ্জু বসু আর ভোটে লড়বেন না। তাঁর জায়গায় তৃণমূলের বাজি তৃণাঙ্কুর।
অন্যদিকে, ২০২২ সাল থেকে সুনীল সিং তৃণমূলে। সম্প্রতি গারুলিয়ায় মঞ্জু বসুর সঙ্গে তাঁকে এক মঞ্চেও দেখা গিয়েছে। গারুলিয়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, টিকিট পেতে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন সুনীল। তৃণমূলের শীর্ষস্তরেও যোগাযোগ করছেন। একইসঙ্গে বিজেপিতেও তাঁর ইট পাতা আছে। অর্জুন সিংয়ের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে শুভেন্দু অধিকারীর সুনজরে আছেন সুনীল। তবে তাঁর পদ্ম-পথে কাঁটা বিজেপির পুরনো কর্মীরা। অন্যদিকে, নোয়াপাড়ার প্রার্থী হিসেবে অর্জুন সিংয়ের নামও শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, “এ সব সিদ্ধান্ত দল নেবে। আমার কিছু বলার নেই।”
সবমিলিয়ে ছাব্বিশের ভোটে নোয়াপাড়া নজরের কেন্দ্রে। তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে নিয়ে জোরাল জল্পনা। আবার বিজেপির অন্দরেও নানা জলঘোলা।









