মঙ্গলবার সকালেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভাঙড়। বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী কামাল পুরকাইত। অভিযোগ, বোমা বিস্ফোরণের ফলে তাঁর বাম হাতের বেশ কিছুটা অংশ ঝলসে গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে এমন ঝামেলা! মধ্য়রাতে ছুটে এলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন কামাল পুরকাইত। তিনি বানতলা চর্মনগরী এলাকায় কাজ করেন বলে তৃণমূল সূত্রে দাবি। রাতের দিকে চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের পুরাতন পাগলা হাট এলাকায় পৌঁছনোর সময় আচমকাই তাঁর উপর হামলা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, আইএসএফ কর্মীরাই কামালকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। সেই বিস্ফোরণেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসক সূত্রে জানা গিয়েছে, কামালের বাম হাতের একাংশে মারাত্মক দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এক যে ছিলো নেতা; অশ্বারোহী নেতাজীর মূর্তির ইতিকথা
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস আইএসএফের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভাঙড় এলাকায় বারবার আইএসএফ আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দ্বারা বোমাবাজি ও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের মতে, সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাই এই হামলার মূল উদ্দেশ্য।
তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইএসএফ। দলের নেতা মালেক মোল্লা দাবি করেছেন, এই ঘটনায় আইএসএফের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর বক্তব্য, “তৃণমূল কর্মীরাই এলাকা অশান্ত করার জন্য বোমা নিয়ে ঘুরছিল। সেই বোমাই অসাবধানতাবশত বিস্ফোরিত হয়ে তাঁরা নিজেরাই আহত হয়েছে। এতে আইএসএফকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের দলকে বদনাম করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর থেকেই ভাঙড় এলাকায় টানটান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়। ভাঙড় ডিভিশনের অন্তর্গত উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তবে তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।









