শুভজিৎ মিত্র, কলকাতাঃ
কথায় আছে নাড়ির টান,বড় টান!।বোধহয়,দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসেই নাড়ির টান পর্যন্ত অস্বীকার করেছেন,প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।কথাটা বলার পেছনে কারণ হল,দ্বিতীয় মার্কিন মসনদে বসবার পর থেকেই অভিবাসন নীতি নিয়ে নিজের অনমনীয়তার একটার পর একটা সীমা পার করে চলেছেন তিনি।অথচ,সেই অভিবাসী এক স্কটিশ রমনীর গর্ভেই জন্ম নেন,স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।সেই দিক থেকে তার সাথে একটা অভিবাসি যোগসূত্র রয়েছে।তা সত্ত্বেও কেন এতটা তিনি কঠোরতা দেখাচ্ছেন,অবাক করা বিষয়ে!
ট্রাম্পের ঘোষণা
দ্বিতীয় বার আমেরিকার মসনদ দখল করার পর অবৈধ অভিবাসীদের ধরে ধরে নিজের নিজের দেশে পাঠানোর কাজ শুরু করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছিলেন, অবৈধ অভিবাসীদের জায়গা নেই আমেরিকায়।সাধারণভাবেই মনে প্রশ্ন জাগছে,তাতে সমস্যাটা কোথায়?
আরও পড়ুনঃ গিনেস বুকে সে তুলেছে নাম! পৃথিবীর ইতিহাসে কে সবচেয়ে নৃশংসতম নরখাদক ছিলেন তা কি জানেন?
বৈধ অভিবাসিদের ভিসা বাতিলের আশঙ্কা!
বিভিন্ন ভিসা নিয়ে আমেরিকায় যাওয়া বৈধ অভিবাসীদের নিয়েও নিয়মের কড়াকড়ি শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্পের প্রশাসন। পাঁচ কোটির বেশি ভিসা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছিল সে দেশের সরকার। এই যাচাই প্রক্রিয়ার সময় বৈধ ভিসা বাতিল হতে পারে অনেক অভিবাসীরই। জানিয়েছে মার্কিন বিদেশ দফতর।
ট্রাম্পের পারিবারিক অভিবাসন সূত্র
যে অভিবাসিদের ওপর তিনি খর্গহস্ত তিনি।অথচ নিজের পরিবারের অভিবাসি ইতিহাস আছে,তা কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় এড়িয়ে গেছেন।তবে শেষটায় আর লুকিয়ে রাখতে পারলেন না যে তাঁর নিজের জন্মদাত্রী মা-ই একজন অভিবাসিনী।আর সেই অভিবাসীদের আতশকাচের তলায় রাখা ডোনাল্ড ট্রাম্প কখনওই স্বীকার করেননি তাঁর পরিবারের অভিবাসনের ইতিহাস। অভিবাসীদের অপছন্দ করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মা স্বয়ং এক অভিবাসী। ভোটের প্রচারে এসে এই বিষয়টি ব়়রাবরই এড়িয়ে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
আরও পড়ুনঃ হাড়হিম মিশর! ক্রমেই ঘনাচ্ছে রহস্য! ‘অভিশপ্ত’ মমি খুলতেই…!
ম্যারি আ্যন ম্যাকলিয়ডের ট্রাম্প যোগ
ম্যারি আ্যন ম্যাকলিয়ড ছিলেন,স্কটল্যান্ডের এক প্রত্যন্ত দ্বীপ লুইসের বাসিন্দা।বিয়ের পর মেরি অ্যান ট্রাম্প। বর্তমান আমেরিকার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্মদাত্রী।গত শতাব্দীতে অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে মুক্তি পেতে হাজার হাজার স্কটিশ নাগরিক আমেরিকা এবং কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাঁর মধ্যে ছিলেন ট্রাম্পের মা মেরিও।
স্কটল্যান্ডের পশ্চিম প্রান্তের এক ক্ষুদ্র দ্বীপ লুইসে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠা মেরির। তাঁর বাবা ছিলেন জেলে। যুদ্ধের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা মেরির পরিবারের অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। ভাগ্যপরীক্ষা করতে ভাল সুযোগের সন্ধানে দেশত্যাগ করেন মেরি।
মাত্র ৫০ ডলার নিয়ে দেশত্যাগ
১৯২৯ সালের নভেম্বরে ১৭ বছর বয়সে গ্লাসগোর এসএস ট্রান্সিলভ্যানিয়া জাহাজে চড়ে বসেন মেরি। পকেটে ছিল মাত্র ৫০ ডলার। একবুক আশা নিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউরোপ থেকে পালিয়ে দারিদ্র্য ও হতাশার হাত থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন তিনি।
তিনি অভিবাসী হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে স্থায়ী ভাবে থাকার ইচ্ছা ছিল মেরির। মেরি ছিলেন তাঁর বাবা-মায়ের ১০ সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। ১৯১২ সালের মে মাসে স্কটল্যান্ডের প্রত্যন্ত দ্বীপের টং নামের একটি গ্রামে তাঁর জন্ম।
এখন প্রশ্ন একটাই যে ট্রাম্পের নিজের মা একজন অবংশম্ভূত মার্কিন নাগরিক ছিলেন,তা সত্ত্বেও কেন এত অভিবাসন বিদ্বেষ?সবটাই কি নিজের “মেক আমেরিকা,গ্রেট এগেইন” প্রকল্পের নামে বিদেশী বিতাড়ন কর্মসূচির অংশ।









