কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
নতুন বছরের শুরুতে পাহাড় ও ডুয়ার্স ভ্রমণে পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা শিলিগুড়ি। কেউ ছুটছেন দার্জিলিং-কালিম্পং, কেউ বা সিকিমের পথে। কিন্তু এই চিরচেনা পর্যটন ব্যস্ততার মাঝেই এক নজিরবিহীন ও থমথমে চিত্র ধরা পড়ল শিলিগুড়ির অলিগলিতে। শিলিগুড়ি জংশন থেকে শুরু করে বাসস্ট্যান্ড, সর্বত্রই এখন মাথা চাড়া দিয়েছে ‘বয়কট বাংলাদেশ’ আন্দোলন।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশে ঘুরে গেল খেলা! BNP-তে বিরাট পরিবর্তন
গত কয়েকদিন ধরেই শিলিগুড়ির বিভিন্ন হোটেল, লজ এবং যানবাহনে ‘বাংলাদেশিদের প্রবেশ নিষেধ’ পোস্টার দেখা যাচ্ছিল। নতুন বছরের আবহে সেই সুর আরও চড়া হয়েছে। এখন শুধু হোটেলেই নয়, শহরের টোটো, অটো এমনকি পান-বিড়ির দোকানেও সাঁটানো হয়েছে ‘বয়কট বাংলাদেশ’ পোস্টার।
পরিষেবায় না: শহরের অনেক টোটো ও গাড়ি চালক বাংলাদেশি যাত্রী তুলতে অস্বীকার করছেন।
খাদ্য ও আবাসন: বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তোরাঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনো পরিষেবা বা খাবার দেবে না।

ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের এই গণ-অসন্তোষের মূলে রয়েছে বাংলাদেশে দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই ঘটনার প্রতিবাদে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা সরব হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর চলা অত্যাচারের বিচার না হওয়া পর্যন্ত এই বয়কট চলবে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এবং সিপিএমের মতো রাজনৈতিক দলগুলি এই ধরনের বয়কটের বিরোধিতা করেছে, কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ঠিক হয়ে গেল দিনক্ষণ, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন মমতা
একদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, অন্যদিকে বর্ষবরণের ভিড়, দুই সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। শিলিগুড়ি করিডোর জুড়ে শুরু হয়েছে কড়া নাকা তল্লাশি।

জংশন এলাকায় বাস বা গাড়ি থামিয়ে পর্যটকদের ব্যাগ ও মালপত্র তল্লাশি করা হচ্ছে। নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো শহরকে।
নাগরিক অসন্তোষের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সীমান্তেও। অভিবাসন দফতর সূত্রে খবর–
উত্তরবঙ্গের চেকপোস্টগুলো দিয়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত সোমবার মাত্র ৩৪ জন বাংলাদেশে থেকে এপারে এসেছেন।
আপাতত বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু করা বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধুমাত্র যাদের আগে থেকে আবেদন করা ছিল, তাঁদেরই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
শিলিগুড়ির মতো পর্যটনবান্ধব শহরে যেখানে বিভেদ ভুলে সকলকে স্বাগত জানানোই দস্তুর, সেখানে এই ধরণের প্রতিবাদ পর্যটন ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার।









