ইরান ও আমেরিকার সংঘাত কি তবে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছতে চলেছে? মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ ঘনাচ্ছে যুদ্ধের আশঙ্কা। বুধবার সন্ধ্যার মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, কাতারের আল-উদেইদ থেকে মার্কিন কর্মীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তপ্ত বঙ্গ রাজ্য-রাজনীতি! সিঙ্গুরে আবার ফিরবে টাটা, আশ্বাস দিলেন সুকান্ত
আমেরিকার তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’। তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের দাবি, পেন্টাগনের এই পদক্ষেপ আসলে বড় মাপের সংঘাত শুরুর আগের কৌশলগত প্রস্তুতি। একই সঙ্গে ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সরকারি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক দাবি করেছেন আজিজ নাসিরজাদেহ। ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের হুঁশিয়ারি, ইরানের ভাঁড়ারে অনেক চমক আছে। একদিকে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমেরিকার সম্পত্তিতে হামলা হলে ইরানকে ফল ভুগতে হবে।’ অন্যদিকে তখন ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি দিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্ৰী বলছেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়েও লড়ব। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি থেকে সেনাবাহিনীকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্রের খবর, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে আল উদেইদ ঘাঁটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাহিনীর একাংশকে। এই নির্দেশকে ‘সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবেই উল্লেখ করছে আমেরিকা। কাতারের আল উদেইদ সেনাঘাঁটিতে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। গত বছরও ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১৪টি ব্যালিস্টিক মিসাইল পাঠিয়ে হামলা করেছিল ইরান। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টও বলছে, তেহরানের হুঁশিয়ারির পর থেকেই ওয়াশিংটন সেনা সরাতে শুরু করেছে।
আরও পড়ুনঃ থেমে গেল সুরের যাত্রা; সুরের অন্তরালে নীরব শ্রদ্ধা, প্রয়াত অর্ঘ্য সেন
ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ইরানে আন্দোলন চলছে। চরম আর্থিক সঙ্কট সহ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত মানুষ পথে নেমেছে, প্রশাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে। ইরান সরকার এই বিক্ষোভ দমন করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিহতের সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়েছে, তারপরও ইরানে বিক্ষোভ থামছে না। এরই মধ্যে সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প।
এদিকে, যুদ্ধের আবহে ভারতীয়দের ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। একে একে ইরান ছাড়ছেন ভারত, আমেরিকা, ইউরোপীয় দেশের নাগরিকরাও। মার্কিন সেনা যে যুদ্ধের জন্য তৈরি, তা নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। ইরানের আশপাশে সব মার্কিন বায়ুসেনা ঘাঁটি চূড়ান্ত সতর্ক রয়েছে।









