শীতের বিদায়বেলায় কলকাতার বাজারে মিলছে বড় স্বস্তির খবর। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসে শীতকালীন সবজির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই নেমে এসেছে। স্থানীয় জেলাগুলি থেকে প্রচুর সরবরাহ হওয়ায় অধিকাংশ সবজি এখন কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরের খরচে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়াই প্রধান; বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই, লক্ষ্মীবারে বঙ্গের আবহওয়ার হালচাল
খুচরো বাজারের বর্তমান দর অনুযায়ী, আলুর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে কেজি প্রতি প্রায় ১৫ টাকায় নেমেছে। পেঁয়াজের দামও নিয়ন্ত্রণে, কেজি প্রতি ১৮ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিকোচ্ছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি এখন সবচেয়ে সস্তা। ছোট আকারের ফুলকপি ১৪ থেকে ১৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, আর বড় কপির দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। বাঁধাকপিও ১৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে বিকোচ্ছে।
গাজরের দাম মানভেদে কিছুটা ওঠানামা করছে। ভালো মানের গাজর কেজি প্রতি ৬০–৬৫ টাকা হলেও, সাধারণ গাজর ৪০ টাকার আশেপাশে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, বেগুনের দামও স্বাভাবিক রয়েছে ২০ থেকে ৪২ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
টমেটোর বাজারে কিছুটা বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় জেলাগুলি থেকে আসা টমেটো তুলনামূলক সস্তা হলেও, বেঙ্গালুরু থেকে আসা ভালো মানের টমেটোর দাম এখনও ৭০–৮০ টাকার মধ্যে রয়েছে। একইভাবে ক্যাপসিকাম ও বিনসের মতো কিছু সবজির দাম এখনও বেশি, কারণ এগুলির সরবরাহ অন্য রাজ্য থেকে আসছে।
আরও পড়ুনঃ প্রার্থী করার প্রস্তাব দিয়েছে বিজেপি! বিস্ফোরক দাবি সিপিএম নেতা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের
উচ্ছে ও করলার মতো সবজির দাম তুলনামূলক বেশি। সিজন পরিবর্তনের কারণে এগুলির সরবরাহ কম থাকায় দাম কেজি প্রতি ৮০ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে রয়েছে। ফলে এই সবজিগুলি এখনও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে বলেই মনে করছেন অনেক ক্রেতা। বাজারের এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সরবরাহ বৃদ্ধি। কলকাতার আশপাশের জেলাগুলি থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সবজি আসায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কৃষি বিপণন সংক্রান্ত সূত্রের মতে, এই সময়টায় উৎপাদন বেশি থাকায় বাজারে জোগানও প্রচুর থাকে।
এছাড়া উৎসবের মরশুম পেরিয়ে যাওয়ায় চাহিদাও কিছুটা কমেছে। মকর সংক্রান্তি ও সরস্বতী পুজোর পর সাধারণত বাজারে ক্রেতার চাপ কমে, যার প্রভাব পড়ে দামের ওপর। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনুকূল আবহাওয়া ঝড়বৃষ্টি বা অতিরিক্ত ঠান্ডা না থাকায় ফসলের ক্ষতি হয়নি, ফলে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্চের শুরু পর্যন্ত এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। তবে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সবজির দাম আবার বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেগুলির মৌসুম শেষের দিকে।









