শিবনাথ প্রধান, সাঁতরাগাছি, হাওড়া:
ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটির বেশি। ভারত সরকারের পরিবহন দফতরের জুলাই, ২০২৩ এর হিসাবে রেজিস্ট্রার দুই চাকার বাহন সংখ্যা ৩৪ কোটি। এবং চার চাকার বাহন ৭ কোটি । ভারী যানবাহন ৩৩ লাখ।
উপরের পরিসংখ্যানটা দেওয়ার কারণ যানবাহন নির্গমন শহর এলাকায় বায়ু দূষণের একটি প্রধান কারণ । সাধারণত, যানবাহন নির্গমন বায়ুর মানের শ্বাস-প্রশ্বাসের স্তরে ২৫-৩০% পার্টিকুলেট ম্যাটার (PM) ২.৫ অবদান রাখে ।
আরও পড়ুনঃ কেঁদে ফেললেন পার্থ, কিছু বললেনও না; ছলছল চোখে বেরোলেন জামিনে মুক্ত পার্থ
PM২.৫ বলতে এমন কণাকে বোঝায় যেগুলির ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম (মানুষের চুলের চেয়ে ১০০ গুণের বেশি পাতলা) এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থায়ী থাকে। গবেষণা অনুসারে, যানবাহন বার্ষিক PM২.৫ এর প্রায় ২৯০ গিগাগ্রাম (Gg) অবদান রাখে।
একই সময়ে, ভারতে মোট গ্রীনহাউস গ্যাস (GHG) নির্গমনের প্রায় ৮% পরিবহন খাত থেকে হতো ২০০০ সাল পর্যন্ত। বর্তমানে যা ৩০% ছাড়িয়েছে।
পরিবহন খাত মোট নির্গমনের জন্য এক চতুর্থাংশেরও বেশী দায়ী, যার মধ্যে সড়ক পরিবহনের জন্য তিন-চতুর্থাংশ পরিবহন নির্গমন (এবং মোট বিশ্বব্যাপী CO2 নির্গমনের ১৫%)। যাত্রীবাহী যানবাহনগুলি এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ, যা প্রায় ৪৫% CO2 নির্গত করে। যদি পরিস্থিতি এমনি থাকে তবে ২০৩৫ সালে বার্ষিক GHG নির্গমন ২০২০ সালের তুলনায় ৯০% বেশি হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সর্বাধিক প্রভাব জনজীবনের উপর পড়েছে । প্রতি ৩ জনের ১ জন দূষণের প্রভাবে আক্রান্ত আমাদের অজান্তেই।
প্রভাব কোথায় পড়ছে
* শিশুদের বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ব্যাহত এবং স্নায়ুর ক্ষতি
* গর্ভবতী মহিলাদের শারীরিক ক্ষতি
* বায়ু দূষণে চোখ, শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি
* ক্যান্সার ও হৃদরোগ
* জলদূষণ, যার প্রভাব অনেক দীর্ঘস্থায়ী
* খাদ্যচক্রের মাধ্যমে ক্ষতি
* শব্দ দূষণের কারণে হাইপার টেনশন
* খাদ্য দূষণে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
খুব প্রয়োজনীয় কারণ ছাড়া ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য যানবাহন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন ।
পরিবেশ দূষণ এড়ানোর জন্য শুধু সরকার বা কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। নিজেরা আগে পরিবেশ রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে হবে।









