কেরলের নামবদল নিয়ে মোদী সরকারের সিদ্ধান্তের পরই ফের কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহ তৈরি হলো বাংলায়। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা কেরলের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে চরম বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেরলের বাম সরকারের প্রস্তাবে সায় দিলেও বাংলার দীর্ঘদিনের দাবিকে ক্রমাগত উপেক্ষা করছে দিল্লি।
আরও পড়ুনঃ এই মুহূর্তে সবচাইতে বড় খবর; মোদী সরকারের সিদ্ধান্তে নাম বদলাচ্ছে রাজ্যের
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, কেরল বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া নামবদলের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০২৪ সালের ২৪ জুন কেরল বিধানসভায় এই প্রস্তাব পাস হয়েছিল। আসন্ন কেরল নির্বাচনের আগে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
এই খবর শোনার পরই এদিন নবান্নে মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার একাধিকবার বিধানসভায় নামবদলের প্রস্তাব পাস করে পাঠালেও কেন্দ্র তা ঝুলিয়ে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,
“আমাদের দীর্ঘদিন ধরে কেন ‘ডব্লিউ’ (W) অক্ষরের জন্য তালিকায় সবার শেষে পড়ে থাকতে হবে? আমাদের রাজ্যের ছেলেমেয়েরা যখন সর্বভারতীয় পরীক্ষা দিতে যায়, তখন তাদের পিছনের বেঞ্চে বসতে হয়। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি কোনো বৈঠকে গেলে আমাকে সবার শেষে বলার সুযোগ দেওয়া হয়।”
আরও পড়ুনঃ বাংলায় নজিরবিহীন! হাতে আর কয়েক ঘণ্টা; ‘দুপুরেই সব উড়ে যাবে’! ছুটল বম্ব স্কোয়াড
তিনি আরও যোগ করেন, “বিধানসভায় আমরা দুই-তিনবার ‘বাংলা’ নাম পাস করেছি। ভোটের সময় ওরা এই রাজ্যকে ‘বাংলা’ বলে ডাকলে এখন নাম দিতে আপত্তি কোথায়? ওরা আসলে বাংলা বিরোধী, তাই আমাদের সঙ্গে বঞ্চনা করছে।”
কেরলের বাম সরকারের দাবি মেনে নেওয়ায় বিজেপি ও সিপিএম-এর মধ্যে গোপন বোঝাপড়া রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, কেরলে বামেদের সুবিধা করে দিয়ে বাংলায় তৃণমূলকে কোণঠাসা করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।









