এসআইআর নিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলার শুনানি রয়েছে আজ। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। বিচারপতির অনুমতি মিললেই সওয়াল করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার দুপুর একটা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যাবতীয় শুনানি হবে, সেই হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী মামলার শুনানি হত না বলেই জানা গেছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বাংলার এসআইআর নিয়ে এই মামলাকে অগ্রাধিকার দিল শীর্ষ আদালত। ক্রমতালিকায় এগিয়ে এল কেস নম্বর। পূর্ব নির্ধারিত কয়েকটি মামলার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলার শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। এদিকে, আগে থেকে করা তৃণমূলের তিন সাংসদের মামলার কেস নম্বর নেই সেই তালিকায়।
আরও পড়ুনঃ নতুন রূপে বাংলার ‘দিদি’; মধ্যরাত থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়; ইতিহাস গড়বে বাংলা
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর নিয়ে যে মামলা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেটি ছিল ৩৭ নম্বরে। ইতিমধ্যেই ১ নম্বর কোর্টরুমে প্রধান বিচারপতির এজলাস বসে গেছে। শুরু হয়েছে ১ নম্বর কেসের শুনানি। ডিসপ্লে বোর্ডে দেখা যাচ্ছে, প্রথমে ১ থেকে ৫ নম্বর মামলার শুনানি হবে, এরপর ৩৫ নম্বর, ৬ থেকে ১৬ নম্বর, তারপরই ৩৬ ও ৩৭ নম্বর কেসের শুনানি হবে শীর্ষ আদালতে। ৩৬ নম্বর কেসটি এসআইআর (SIR) নিয়ে করা জয় গোস্বামীর মামলা এবং ৩৭ নম্বরটি মুখ্যমন্ত্রীর।
বুধবার ঠিক সকাল ৯.৫৫ নাগাদ দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়ি থেকে বেরোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১০টার কিছু পরে পৌঁছে যান সুপ্রিম কোর্টে। আগে থেকেই তাঁর নামে নামে ‘গেট পাস’ ইস্যু হওয়ায় তাঁর গাড়ি গেটের ভিতরে ঢুকতে পারে। গাড়ি থেকে নেমে লিফটে করে সোজা চলে যান শুনানি কক্ষে।
১ নং কোর্ট রুমে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে। এই মুহূর্তে শুনানি কক্ষের শেষ সারিতে বসে রয়েছেন তিনি। তাঁর কেস নম্বর এলে এগিয়ে আসবেন।
এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকেই সরব বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারেরভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আর এমাসের শুরুতেই ‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’দের নিয়ে এসেছেন দিল্লি সফরে।
এসআইআর নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু অভিযোগ, একটি চিঠিরও জবাব পাননি। এরমধ্যেই ২ তারিখ তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলায় এসআইআর ক্ষতিগ্রস্তরাও। অল্প সময়ের মধ্যেই বৈঠক ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কোনও সদুত্তর মেলেনি এমনকি তাঁদের অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সওয়াল করবেন। এখন অপেক্ষা প্রধান বিচারপতির অনুমতির, তাহলের দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটবে। এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করবেন।
এদিকে শুনানির ১২ ঘণ্টা আগে থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলে দিয়েছে তৃণমূল। দলের প্রায় সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে একটি গ্রাফিক্স ইমেজ পোস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, কালো রোব পরে সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়ি বেড়ে উঠছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নীচে লেখা, ‘সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর-কে চ্যালেঞ্জ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়’।
মমতার আর্জির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মাইক্রো অবজ়ারভারদের ভূমিকা। তিনি আদালতকে অনুরোধ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ থেকে সমস্ত মাইক্রো অবজ়ারভারকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হোক। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, অবজ়ারভাররা যেন কোনও আইনি ক্ষমতা ব্যবহার না করতে পারেন, যেমন শুনানিতে অংশ নেওয়া বা যাচাই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা।
মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, যাঁদের বিরুদ্ধে ফর্ম-৭ জমা পড়েছে, তাঁদের নাম অনলাইনে প্রকাশ করা হোক যাতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে। পাশাপাশি, যাঁরা ফর্ম-৭ জমা দিচ্ছেন, তাঁদের শুনানির সময় সশরীরে হাজির থাকার বাধ্যতামূলক করা উচিত বলেও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।





