Monday, 19 October, 2026
19 October
HomeকলকাতাDurga Puja: দাম নাগালের মধ্যে; আর ওড়িশা বা বেঙ্গালুরু নয়, দেশি পদ্মের...

Durga Puja: দাম নাগালের মধ্যে; আর ওড়িশা বা বেঙ্গালুরু নয়, দেশি পদ্মের বিপুল উৎপাদনে অষ্টমী ও সন্ধিপুজোর চাহিদা মেটাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ

বাংলার নিজস্ব পদ্ম তার চমৎকার গোলাপি রঙা সৌন্দর্য এবং অসাধারণ গুণগত মানের জন্য সর্বদাই সেরা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:

দুর্গাপুজোর সময় মায়ের চরণ সাজাতে পদ্ম ফুল জোগাড় করা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তা ও গৃহস্থদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা এবার অনেকটাই দূর হয়েছে। ওড়িশা বা বেঙ্গালুরুর ওপর আর নির্ভর করতে হয়নি, বরং বাংলার নিজস্ব ফুল চাষিদের হাত ধরে উৎপাদিত গোলাপি পদ্মেই এবার বিপুল চাহিদা মেটছে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মল্লিকঘাট ফুল বাজার থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুর, নদিয়া কিংবা পুরুলিয়া—সর্বত্রই এবার পদ্ম ফুলের জোগান ও বিক্রি রয়েছে তুঙ্গে।

দামও রয়েছে সাধারণ মানুষের একেবারে নাগালের মধ্যে। বিগত বছরগুলিতে যেখানে মহাসপ্তমীর রাতে একেকটি পদ্মের দাম একলাফে ৫০ টাকা পর্যন্ত ছুঁয়ে ফেলত, সেখানে এবার মাত্র ১৬ থেকে ২০ টাকা দামেই মিলছে আকর্ষণীয় পদ্ম।

আরও পড়ুনঃ  একটি কিনলে একটি ফ্রি JIO BUY 1 GET 1 অফার! রিচার্জ করলেই আর এক মাস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে

কীভাবে মিটল পদ্মের এই বিপুল চাহিদা?

এবছর রাজ্যে পদ্মের ফলন ভালো হওয়ার নেপথ্যে অনুকূল আবহাওয়া ও চাষিদের মুন্সিয়ানা কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক। তিনি জানান, এবার রাজ্যে সেই অর্থে কোনো বড় বন্যা হয়নি। এছাড়া যেসব নিচু এলাকায় অতিরিক্ত জল জমে থাকার কারণে সাধারণত আমন ধানের চাষ করা সম্ভব হয় না, সেখানকার চাষিরা এবার বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে পদ্ম চাষ করেছেন। এর ফলে বাজারে যেমন ব্যাপক হারে গোলাপি পদ্মের সমাহার দেখা যাচ্ছে, তেমনই সাধারণ পদ্মের জোগানও যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে।

বাইরের রাজ্যের পদ্মের চেয়ে কেন এগিয়ে বাংলার পদ্ম?

সাধারণত দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাজ্যের ফুল চাষ মার খাওয়ার ফলে প্রতিবারই ওড়িশা এবং বেঙ্গালুরুর ওপর ভরসা করতে হতো। কিন্তু বাইরে থেকে আসা সেই ফুলের মান নিয়ে বহু সমস্যা থাকত। বেঙ্গালুরুর পদ্ম মাঝারি সাইজের হলেও তার গুণগত মান ভালো না থাকায় তা খুব দ্রুত শুকিয়ে ঝরে যায়। অন্যদিকে, ওড়িশার পদ্ম সাধারণত সাদা রঙের এবং আকারে বেশ ছোট হয়।

তুলনায় বাংলার নিজস্ব পদ্ম তার চমৎকার গোলাপি রঙা সৌন্দর্য এবং অসাধারণ গুণগত মানের জন্য সর্বদাই সেরা। পুজো আয়োজক থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থরা মা দুর্গার চরণ সাজানোর জন্য বরাবরই এই মানসম্মত গোলাপি পদ্মই বেছে নিতে চান। আর এবার স্থানীয় চাষিরা পর্যাপ্ত জোগান দেওয়ায় তাঁরা ভালো মুনাফার মুখও দেখেছেন।

আরও পড়ুনঃ অল্পের জন্য রক্ষা, টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে বাড়ির সামনে চলল গুলি

পদ্ম ফুলের দাম নাগালের মধ্যে থাকলেও মহাসপ্তমীর দিনে কলকাতার মল্লিকঘাট ফুল বাজারে অন্যান্য কিছু পুজোর ফুলের দাম কিছুটা চড়া ছিল। বাজার ঘুরে যে দরদাম দেখা গেছে তা নিম্নরূপ:

* রজনীগন্ধা ফুল: প্রতি কিলো ৪০০ টাকা এবং ২৪টি রজনীগন্ধার স্টিকের একটি বান্ডিল বিক্রি হয়েছে ২৫০ টাকায়।
* গোলাপ ফুল: প্রতি ১০০ পিস গোলাপের দাম উঠেছে ৩৫০ টাকা।
* গাঁদা ফুল: ঝুরো লাল গাঁদা প্রতি কিলো ৭০ টাকা এবং ঝুরো হলুদ গাঁদা প্রতি কিলো ৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
* গাঁদা ফুলের মালা: তিন ফুট সাইজের লম্বা ২০টি লাল গাঁদা ফুলের দাম হয়েছে ২০০ টাকা এবং একই সাইজের ২০টি হলুদ-বাসন্তী গাঁদা ফুলের মালা বিক্রি হয়েছে ৩০০ টাকায়।
* অন্যান্য ফুল: প্রতি কিলো অপরাজিতা ফুল ৪৫০ টাকা এবং দোপাটি ফুল ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বাইরের রাজ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলার কৃষকদের উৎপাদিত ফুল দিয়ে এভাবে পুজোর চাহিদা পূরণ হওয়ায় রাজ্যজুড়ে ফুল চাষিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন