আজ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, রবিবার। ছুটির দিনের সকালে পশ্চিমবঙ্গের সবজির বাজারে পা রাখলেই চোখে পড়ছে ভরা মরসুমের চেনা ছবি। বাজারজুড়ে টাটকা শীতকালীন সবজির প্রাচুর্য, রঙিন সবজি আর ক্রেতাদের ভিড় সব মিলিয়ে একেবারে চেনা শীতের বাজার। তবে এই স্বস্তির মাঝেও দামের নিরিখে একেবারে একরকম চিত্র নয়। কোথাও দাম স্থিতিশীল, আবার কিছু সবজিতে গত সপ্তাহের তুলনায় সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ গুটি গুটি পায়ে শীত বলছে ‘টা-টা’, প্রজাতন্ত্রের আগে বাড়ল বাংলার তাপমাত্রা
সবচেয়ে আগে নজর যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় আলু ও পেঁয়াজের দিকে। আজকের বাজারে জ্যোতি আলু কেজি প্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে, যা সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বস্তির খবর। তবে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে সেই স্বস্তি পুরোপুরি নেই। মান ও আকারভেদে পেঁয়াজের দাম কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, সংরক্ষণ ও পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়াতেই পেঁয়াজের দামে এই চাপ।
শীতকালীন সবজির দিক থেকে অবশ্য বাজার বেশ জমজমাট। ফুলকপি প্রতি পিস ১৫ থেকে ২০ টাকায় সহজেই মিলছে, আর বাঁধাকপি কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নতুন বড় সিমের চাহিদা বেশ ভালো, দাম কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। শীতের মরসুমে এই সবজিগুলোর সরবরাহ ভালো থাকায় বড়সড় দামবৃদ্ধির আশঙ্কা আপাতত নেই বলেই মত বিক্রেতাদের।
টমেটোর বাজারেও আপাত স্থিতাবস্থা। কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে টমেটো বিক্রি হচ্ছে। গাজর ও বিটের দামও মাঝামাঝি পর্যায়ে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যেই মিলছে এই দুই জনপ্রিয় শীতকালীন সবজি। গৃহস্থালির রান্নায় এই সবজিগুলোর ব্যবহার বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো।
তবে ঝাল আর মশলার বাজারে একটু হলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ। কাঁচালঙ্কার দাম এখনো বেশ চড়া কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আদার দামও কম নয়, কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় জোগান কমে যাওয়া এবং বাইরের রাজ্য থেকে আমদানির উপর নির্ভরতা বাড়ায় এই দুই পণ্যের দাম সহজে নামছে না।
আরও পড়ুনঃ ‘দস্তি’ কি শেষ! ‘বন্ধু’ কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা ‘শূন্য’ সিপিএমের
ছুটির দিন হওয়ায় কলকাতার বড় পাইকারি বাজার যেমন কোলে মার্কেট, শিয়ালদহ সংলগ্ন বাজার কিংবা গড়িয়াহাটে সকাল থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সপ্তাহের বাজার একসঙ্গে সেরে নিতে আসায় ভোরের দিকেই কেনাকাটা জমে ওঠে। খুচরো বাজারে অবশ্য এলাকাভেদে দামের ৫ থেকে ১০ টাকার পার্থক্য চোখে পড়ছে, যা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাজারের সঠিক ও তাৎক্ষণিক দর জানতে চাইলে সাধারণ মানুষ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে চালু হওয়া সুফল বাংলা-র পোর্টালের উপর ভরসা রাখতে পারেন। প্রতিদিনের আপডেট থাকায় এটি ক্রেতাদের জন্য কার্যকর একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬-এর রবিবারে পশ্চিমবঙ্গের সবজির বাজারে দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। শীতের মরসুম যতদিন থাকবে, ততদিন বড় কোনও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কম বলেই মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।









