নতুন বছরের শুরুতে শীতের দাপটের মধ্যেই রাজ্যের সবজির বাজারে মিশ্র ছবি। কোথাও স্বস্তি, আবার কোথাও দুশ্চিন্তা এই দুই মিলিয়েই চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দর। আজকের বাজারদর দেখলে স্পষ্ট, পেঁয়াজ ও আলুর মতো নিত্যসবজি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও টম্যাটো, কাঁচালঙ্কা ও কিছু সবুজ শাকসবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
আরও পরুনঃ শীতের আমেজ আরও গাঢ়; বছরের প্রথমেও শীতের ঝোড়ো ব্যাটিং অব্যাহত
বড় পেঁয়াজের দাম আজ কেজি প্রতি গড়ে ৩০ টাকা, খুচরো বাজারে যা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে। ছোট পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ছবিটা ভিন্ন পাইকারিতে ৫০ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা পৌঁছচ্ছে ৬০ টাকার গণ্ডি ছুঁয়ে। শীতের মরশুমে পেঁয়াজের জোগান কিছুটা বাড়লেও পরিবহণ খরচ ও সংরক্ষণের সমস্যার প্রভাব এখনও কাটেনি বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
টম্যাটোর দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধাক্কা। পাইকারি বাজারে গড়ে ৫০ টাকা হলেও খুচরো বাজারে তা ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত উঠছে। একই অবস্থা কাঁচালঙ্কার গড় দাম ৪৫ টাকা হলেও খুচরোতে ৫৫ থেকে ৭০ টাকার নিচে নামছে না। রান্নাঘরের নিত্য উপকরণ হওয়ায় এই দাম সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে চাপ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে আলু কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। কেজি প্রতি গড় দাম ৩০ টাকা, যা খুচরো বাজারে ৩৫ থেকে ৩৮ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ব্যবসায়ীদের মতে, নতুন ফসল উঠতে শুরু করায় আগামী দিনে আলুর দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। শীতকালীন সবজির মধ্যে বাঁধাকপি ও ফুলকপির দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে। বাঁধাকপি গড়ে ২৬ টাকা ও ফুলকপি ৩২ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যদিও খুচরো বাজারে তা যথাক্রমে ৩০–৪০ টাকার আশপাশে। গাজর ও বিটরুটের দাম মাঝামাঝি স্তরে থাকলেও নিয়মিত কেনাকাটায় কিছুটা বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
শাকসবজির বাজারেও মিশ্র ছবি। লাল শাক ও কচুশাকের মতো শাকের দাম গড়ে ১৭ টাকা থাকলেও ধনেপাতা এখনও তুলনামূলক সস্তা ১৩ টাকায় মিলছে। তবে রান্নার স্বাদ বাড়াতে ব্যবহৃত এই ধনেপাতার দামও খুচরো বাজারে ২০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছচ্ছে।
আরও পরুনঃ “তোমাদের চৈতন্য হোক্”-কল্পতরুর দেড়শো বছর পরেও কি পরমহংসদেবের বাণী বঙ্গসমাজে একইভাবে সমাদৃত?
ফলজাত সবজির মধ্যে আমলা ও নারকেলের দাম বেশ চড়া। আমলা কেজি প্রতি গড়ে ৯৫ টাকা এবং নারকেল ৬৭ টাকা, যা খুচরো বাজারে আরও বাড়ছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের মরশুম ও কম জোগানের কারণেই এই দাম বৃদ্ধি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, শীতের বাজারে কিছু সবজিতে স্বস্তি মিললেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি দাম। সাধারণ মানুষের আশা, আগামী সপ্তাহগুলোতে জোগান বাড়লে বাজার কিছুটা ঠান্ডা হবে ঠিক যেমন আবহাওয়ার শীতল হাওয়া।









