২০২১ এ তৃণমূলের ভোটের ফল যা হয়েছিল, ২০২৪ এর লোকসভাতে তারচেয়ে সামান্য ভোট কমেছে, এটা ঠিক, কিন্তু আপনি যদি বাংলার গত তিনটে লোকসভার ভোটের শতাংশের সংগে বিধানসভার ভোটের একটা কমপারিজন করেন, তাহলে দেখবেন যে লোকসভার ভোটে বিজেপির ভোট কিছুটা বাড়ে আর বিধানসভার ভোটে কমে, হ্যাঁ ২০১৯ তৃণমূল ৪৩%, বিজেপি ৪০%, ২০২১ বিধানসভাতে তৃণমূল ৪৮% বিজেপি ৩৮%, ২০২৪ এ তৃণমূল ৪৫% বিজেপি ৩৬%, এটা কেবল এই রাজ্যে নয়, কেন্দ্রে মোদিজী আসার পরে প্রত্যেক রাজ্যের বিধানসভার তুলনায় লোকসভায় বেশি ভোট পেয়েছে। তো সেই তৃণমূল যারা ২০২১ এ ৪৮% ভোট পেল, ২০২৪ এও যারা ৪৫% ভোট পেল, তাদের ভোট এই দেড় বছরে কমার মত কোন এমন ঘটনা ঘটেছে?
আরও পড়ুনঃ অফিস তিন দিন! বাংলাদেশের সংকট দৃশ্যমান, আপনি প্রস্তুত?
অন্যদিকে ২০২১ এ যে বিজেপি ৩৮% ভোট পেল, ২০২৪ এ যারা ৩৬% ভোট পেল, তারা হঠাৎ করে তাদের ভট বিশাল বাড়িয়ে নেবার মত কী করেছে? রাজ্যে এমন কী হয়েছে যাতে শাসক দলের ভোট অনেকটা কমবে বা বিরোধী দলের ভোট অনেকটা বাড়বে? ধরুন দূর্নীতির কথা বলবেন, বলতেই পারেন, কিন্তু দূর্নীতি তো ২০২১ এও ইস্যু ছিল, প্রশাসনিক ব্যর্থতা? তাও ছিল। ২০২৪ এও ছিল, আর জি কর ছিল, সন্দেশখালি ছিল, শিক্ষা চাকরি দূর্নীতি ছিল, একগুচ্ছ মন্ত্রী নেতারা জেলে ছিলেন, কিন্তু তৃণমূল তার ভোট ধরে রেখেছে, ভোট বাড়িয়েছে। এই ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত হিন্দু মুসলমান হিন্দু মুসলমান করা ছাড়া বিজেপি আর করেছে টা কী? হ্যাঁ একটা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা তৈরি হয়, কিন্তু তার সঙ্গেই কি জুড়বে না এই গ্যাসের দাম বাড়া, এই এস আই আর এর হয়রানি? এখানে তৃণমূল বিজেপিকে একটা জায়গাতেও ছেড়ে রাখে নি, সে প্রচার, ডিজিটাল প্রেজেন্স, পাল্লা দিয়ে সেসব চলেছে। মানে বলতে চাইছি ঐ বিজু জনতা দল বা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রিয় সমিতির মত কখনও বিজেপি কখনও দল, এই দ্বিধাতে ভোগে নি, বরং ঝাড়খন্ডের হেমন্ত সোরেনের মত বা তার চাইতেও অনেক বেশি লড়ে গেছে, হেড অন কলিশন। আবার ঐ যে ঢাকি সমেত বিসর্জন, মূখ্যমন্ত্রীকেই জেলে পুরে দেওয়া, যেমনটা কেজরিওয়ালের সঙ্গে হয়েছে, বা কেজরিওয়ালের মত শীষ মহলের প্রচার মমতা ব্যানার্জির ক্ষেত্রে হয় তো নিই বরং যে মন্ত্রীরা জেলে ছিলেন যে নেতারা জেলে ছিলেন তাঁদের অধিকাংশ জামিনও পেয়েছেন। তারপরে হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মুখ, তেলেঙ্গানাতে বিকল্প হিসেবে রেবন্ত রেড্ডি উঠে এসেছিলেন, এখানে পরিবর্তন পরের কথা পরবর্তি মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে? শুভেন্দু অধিকারী আছেন কিন্তু তিনি এখনও মমতার তুলনায় অনেক অনেক পিছিয়ে। এবং সংগঠন, একটা ঝকঝকে নতুন ইঞ্জিনের মত কাজ করছে তৃণমূলের মেশিন, কাজেই ২৯৪ জন প্রার্থীর ৩৩% বদলের পরে সামান্য দু তিন জায়গা থেকে কিছু ক্ষোভ বিক্ষোভের কথা সামনে এলো, টিকিট না পেয়ে ডাঃ সুপ্রিয় রায় কি রাস্তায় নামলেন? নামেন নি, নির্মল মাজির আসন বদলে গেল? ক্ষোভ? বাইরে তো আসেনি। সোউমেন মহাপাত্র নিজে এলেন মঞ্চে, ক্ষোভ মিটে গেছে।
আরও পড়ুনঃ চুপি চুপি ১০-৩০% দাম বাড়ছে মোবাইল, এসি এবং ওয়াশিং মেশিনের! জেনেও চুপ সরকার
শাসক দলের কোন্দল অক্সিজেন যোগায় বিরোধীদের, কিন্তু সেই ছবি সেই অক্সিজেনের যোগানে টান আছে। মানে পরিবর্তনের থার্মোমিটারে যা যা পাওয়া যায় ১) বিজেপির বিরুদ্ধে দ্বিধা দন্দ্ব নিয়ে ভোটে দাঁড়ানো ২) বিরোধী দলের প্রধান নেতার নামে অন্তত বিশ্বাসযোগ্য দূর্নীতির প্রচার। ৩) বিকল্প মুখ্যমন্ত্রী মুখ ৪) রাজ্য জুড়ে সংগঠন ৫) শাসক দলের মধ্যে বিরাট বিক্ষোভ, অন্তর্দন্দ্ব, ৬) গত তিন চারটে নির্বাচনে ক্রমশ ক্ষয় বা গত দুটো নির্বাচনে বড় ঝটকা ৭) মধ্যিখানে থাকা দলের সঙ্গে জোট বা তাদের ভোট ট্রান্সফার হয়ে যাওয়া। না এর কোনওটাই কিন্তু পশ্চিম বঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে হাজির নেই। কেবল একটা জায়গাতে বিজেপি অনেকটা এগিয়েছে, মানে আগের থেকে অনেকটা, সেটা হল অন্যান্য বারের এই বাংলার যে কোনও নির্বাচন শেষ পর্যন্ত মমতা ভার্সেস মোদি হতো, এবারে কিন্তু লড়াই টা অনেকটা মমতা বনাম শুভেন্দু করে তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি, অনেকটা সফলও। কিন্তু বাংলার রাজনীতিতে আর কোনও নতুন এলিমেন্ট নেই, এমনও নয় যে নতুন কোনও শক্তি উঠে আসছে, এমনও নয় যে বিজেপি বিরোধী দল হিসেবে তারা সম্পূর্ণ বিশ্বাস যোগ্যতা হারিয়েছে। তাই এ রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, আসন থেকে আসনে কে জিতবে কে হারবে নিয়ে কিছু তর্কাতর্কি হতেই পারে, সব নির্বাচনের মতই দু চারটে ইন্দ্রপতন হতেই পারে, কিন্তু মোট আসনে খুব বেশি ফারাক হবে না, নির্বাচনের পরে অনেকের মনে হবে এই ফলাফলের জন্য এত কিছু করে নির্বাচন কমিশনের লাভ কী হল?



