বছর শেষে রাজ্য জুড়ে দাপিয়ে ব্যটিং করছে কনকনে শীত। জেলাজুড়ে হাড়কাঁপানো শীত। বছর শেষে উত্তরের ঠান্ডাকে সমানে সমানে টেক্কা দিচ্ছে পশ্চিমের জেলাগুলি। দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি ঠান্ডা বীরভূমে। দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শ্রীনিকেতনে ৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামল কল্যাণীর পারদ। এরমধ্যে পশ্চিমের জেলা বাঁকুড়ায় গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তাপমাত্রার ক্রমাগত পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ৮ ডিগ্রিতে বাঁকুড়া, বর্ধমানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
অন্য়দিকে বর্ষশেষে জাঁকিয়ে শীতের রেকর্ড দেখা গেল শহর কলকাতায়। ৭ বছরে ডিসেম্বরের শীতলতম দিন দেখল কলকাতা। ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেল কলকাতার পারদ। তাতেই তৈরি হয়ে গেল নতুন রেকর্ড। ২ দশকের ‘শীতলতম বর্ষশেষ’ দেখা গেল মহানগরে। উত্তর শহরতলির দমদমে পারদ নামল ১০ ডিগ্রিতে। ৯ ডিগ্রিতে ক্যানিং, ঝাড়গ্রামের পারদ। সাগরপাড়ের দিঘাতেও ১০ ডিগ্রির ঠান্ডা।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল আমলে বর্ষশেষের শেষ দিনে জাঁকিয়ে শীতের রেকর্ড শহর তিলোত্তমার, পারদ নামল ১১ ডিগ্রিতে
জেলায় জেলায় কামড় বসাচ্ছে উত্তুরে হাওয়া। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু গোটা রাজ্য। বছরের শেষ দিনে দার্জিলিঙে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেল তাপমাত্রার পারদ। ঠান্ডার লড়াইয়ে উত্তরবঙ্গের একাধিক শহরকে হারিয়ে দিল দক্ষিণবঙ্গ! দার্জিলিঙে তুষারপাতের পূর্বাভাসও দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দার্জিলিঙে বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সতর্কতা রয়েছে। বৃষ্টি হতে পারে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কালিম্পঙেও। বাকি জেলাগুলিতে আপাতত শুকনো আবহাওয়া থাকবে। তবে ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তরবঙ্গের সব জেলায়। দৃশ্যমানতা নামতে পারে ১৯৯ মিটার থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে আগামী চার দিন রাতের তাপমাত্রায় খুব বেশি হেরফের হবে না। তার পরের তিন দিনে তাপমাত্রা আরও দুই থেকে তিন ডিগ্রি কমতে পারে।
দার্জিলিং যদি গোটা রাজ্যে শীতের ‘ফার্স্ট বয়’ হয়, তবে সেকেন্ড বীরভূমের শ্রীনিকেতন। বুধবার সেখানে পারদ নেমে গিয়েছিল সাড়ে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ ছাড়া, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নদিয়ার কল্যাণীতে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সিউড়িতে ৭.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আসানসোলে ৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল। অন্যান্য জেলার মধ্যে উলুবে়ড়িয়ায় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাঁকুড়ায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বহরমপুরে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ক্যানিংয়ে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, মগড়ায় ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কলাইকুণ্ডায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বর্ধমানে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পানাগড়ে ৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ব্যারাকপুরে ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ঝাড়গ্রামে ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, দিঘায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, ডায়মন্ড হারবারে ১০.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কাঁথিতে ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, পুরুলিয়ায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বসিরহাটে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল পারদ।
কলকাতার উপকণ্ঠে দমদমে বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া, সল্টলেকে ১১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং হলদিয়ায় ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমেছিল তাপমাত্রা। কলকাতায় বুধবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এই মরসুমের শীতলতম।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশি বই-বিক্রিকে কেন্দ্র করে শ্যামনগর বইমেলায় উত্তেজনা
দার্জিলিঙের পর উত্তরবঙ্গে সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল কালিম্পঙে ( ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস)। এ ছাড়া, মালদহে ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, কোচবিহারে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং জলপাইগুড়িতে পারদ নেমেছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলাতেও ঘন কুয়াশার সতর্কতা রয়েছে। দৃশ্যমানতা ৫০ মিটার পর্যন্ত নামতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং মুর্শিদাবাদে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা একইরকম থাকবে। তার পরের তিন দিনে দুই থেকে তিন ডিগ্রি পারদ চড়তে পারে। তার পরের তিন দিনে আবার রাতের তাপমাত্রায় হেরফের হবে না।
আগামী রবিবার রাত থেকে নিম্নমুখী হতে পারে পারদ। সোমবার ৫ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী সোমবার ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র নতুন করে তৈরি হতে পারে শৈত্য বলয়। যার পোশাকি নাম পাহাড়ি। এর প্রভাবেই রাজ্যের উত্তর এবং পশ্চিমের কম করে ৬ জেলা পড়তে পারে শৈত্য প্রবাহের কবলে চলে আসতে পারে।









