সহসা ‘ইন্ডিয়া লকডাউন’ আর ‘এনার্জি লকডাউন’ শব্দদুটি শোনা যাচ্ছে। ট্রেন্ডিং হয়ে পড়েছে ‘ইন্ডিয়া লকডাউন’ শব্দবন্ধ! সত্যিই কি আবার লকডাউন? সামনে কি কোভিডকালের মহাবিপদ? অচল হবে দেশ? থেমে যাবে দৈনন্দিন জীবন? এত প্রশ্ন উঠে আসছে, কারণ, সংসদে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সব প্রশ্ন উসকে দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ জারি হলুদ সতর্কতা; কাল থেকে বঙ্গে প্রবল ঝড়-বৃষ্টি
‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া‘
মঙ্গলবার, বুধবার ও আজ সারাদিনই সকলে পাগলের মতো গুগলে সার্চ করেছেন– ‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া’! হুজুগ? আতঙ্ক? একটা আতঙ্কের মতো পরিস্থিতি তো তৈরি হয়েছেই। ইরানযুদ্ধ আর তার জেরে ঘটা ঘটনাক্রম ক্রমশ মানুষকে ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। পাশাপাশি কোভিড-১৯-এর স্মৃতিও মানুষকে তাড়া করে ফিরছে। ফলে, বাতাসে সত্যিই এ ধরনের কিছু জিনিসের গন্ধ আছে কি না, তা বোঝার জন্যই মানুষ এত উদগ্রীব।
গুগল কী বলছে?
গুগল বলছে, কোভিড লকডাউনের অ্য়ানিভারসারি চলে এসেছে। এটি ষষ্ঠতম বছর। না, সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা হয়নি। রাজ্যগুলিও লকডাউনের মতো কোনও পরিস্থিতির কথা ঘোষণা করেনি। বলা হয়নি ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা ওই ধরনের কোনও কিছুর।
অতিমারি কাল
প্রসঙ্গত, একদিন আগেই মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলতি উত্তেজনার প্রেক্ষিতে দেশকে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার লোকসভায় এই সংকটজনক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী জানান, যুদ্ধের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশবাসীকে ঠিক সেইভাবেই প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছেন, যেভাবে ভারত করোনা অতিমারির সময় ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল।
কোভিডবার্ষিকী
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট খুবই উদ্বেগজনক। আমাদের ঠিক কোভিডের সময়ের মতোই প্রস্তুত এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, এই যুদ্ধ কেবল বিশ্ব অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলছে না, বরং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উচ্ছাস, দেদার বাজি; শ্রীরূপা প্রার্থী না হাওয়ায় আনন্দ মালদায়
এনার্জি লকডাউন
শোনা যাচ্ছে এনার্জি লকডাউনের কথাও। জ্বালানিসংকট আছে। এবং যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে স্ট্রেট অফ হরমুজ-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা আসায় সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একে একপ্রকার ‘হার্ড লকডাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, এই যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া বিশ্বজনীন অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার সবরকম আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।



