পর্দায় ছিল রামগড়, আর বাস্তবের মাটিতে পুরুলিয়া। পর্দায় ছিলেন ধর্মেন্দ্র ওরফে ‘বীরু’, আর বাস্তবে বছর বাইশের যুবক আব্বাস আনসারী। ব্লকবাস্টার ‘শোলে’ সিনেমার সেই আইকনিক দৃশ্য, যেখানে বাসন্তীকে পাওয়ার জন্য বীরু জলের ট্যাঙ্কে উঠে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, ঠিক সেই ঘটনারই যেন হুবহু রিমেক দেখল পুরুলিয়াবাসী। তবে তফাত শুধু একটাই, সিনেমাতে বীরুকে আটকানোর জন্য গব্বর বা মৌসিজি ছিল, আর এখানে আব্বাসকে নামাতে কালঘাম ছুটল পুলিশ ও দমকল কর্মীদের।
আরও পড়ুনঃ ইন্দাস থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি; বিতর্কে তৃণমূল
আজ রবিবার এমনিতেই ছুটির আমেজ। পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকা যখন সবে আড়মোড়া ভাঙছে, তখনই এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়ে এক অভাবনীয় দৃশ্য। এলাকার বিশাল উঁচু জলের ট্যাঙ্কের মাথায় দাঁড়িয়ে এক যুবক। চিৎকার করছেন। তাঁর একটাই দাবি, “বিয়ে করতে চাই!” মুহূর্তের মধ্যে খবর রাষ্ট্র হয়ে যায়। পুরুলিয়া মফস্বল থানার রামপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্বাস আনসারীর এই ‘বীরু-গিরি’ দেখতে নিচে ভিড় জমান শয়ে শয়ে মানুষ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্বাসের মাথায় ইদানিং বিয়ের নেশা প্রবলভাবে চেপে বসেছে। বাড়ির লোকের কাছে বারবার দাবি জানিয়েও যেন তর সইছিল না তাঁর। যদিও পরিবারের দাবি, তাঁরা বিয়ে দিতে রাজিই ছিলেন। কিন্তু রবিবার সকালে কাউকে কিছু না জানিয়েই আব্বাস পৌঁছে যান দুলমি এলাকায়, উঠে পড়েন জলের ট্যাঙ্কে। সেখান থেকেই শুরু হয় হাই-ভোল্টেজ ড্রামা।
চৈত্রের গরমে যখন প্রকৃতি পুড়ছে, তখন পুরুলিয়ার এই ‘প্রেম-তপ্ত’ যুবকের কাণ্ড দেখে হতবাক পুলিশও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ছুটে আসে দমকল। নিচে দাঁড়িয়ে যুবকের বাবা হাবিব আনসারী ছেলেকে অনেক অনুনয়-বিনয় করেন। কিন্তু কাজ অত সহজে হয়নি। হাবিব বলছেন, “ছেলে বিয়ের দাবি করছিল। আমরাও বলেছিলাম বিয়ে দেব। কিন্তু আজ সকালে দেখি ও এই কাণ্ড করে বসে আছে।”
আরও পড়ুনঃ হরমুজে খেলছে ভারত! ২২,৪০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে হরমুজ পেরিয়ে ভারতের দিকে জাগ বিক্রম
দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে টালবাহানা। একদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুবকের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকা, অন্যদিকে নিচে উৎসুক জনতার ভিড়, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। শেষ পর্যন্ত অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ‘বীরু’ থুড়ি আব্বাসকে নিচে নামিয়ে আনার তোড়জোড় শুরু হয়।



