বিশেষ আইনি প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
জনপ্রিয় ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির (Dhruv Rathee) আইনি অস্বস্তি বহুগুণ বাড়ল। আট বছর আগে দায়ের হওয়া একটি পুরানো মামলায় তাঁর গুরুগ্রামের ঠিকানায় নতুন করে সমন পাঠানোর নির্দেশ দিল দিল্লির সাকেত আদালত। সমন জারির প্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই এড়ানো না যায়, তা নিশ্চিত করতে অভিযোগকারী বিকাশ সাঙ্কৃত্যায়ন (বিকাশ পাণ্ডে)-কে সমন পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীর সঙ্গেই যাওয়ার বিশেষ অনুমতি দিয়েছেন বিচারক। আগামী ১৭ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আরশোলার আয়ু আর ৪৮ দিন; ট্রাম্প হারলে উঠে যাবে সিজেপি
অভিযোগের বহর ও আদালতের অবস্থান
বিকাশ সাঙ্কৃত্যায়নের আবেদন পর্যালোচনা করে আদালত সাফ জানিয়েছে, ধ্রুব রাঠির গুরুগ্রামের বাসভবনে যাতে আইনি নির্দেশিকা যথাযথভাবে পৌঁছায়, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে কেবল এই আট বছরের পুরনো মামলাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক আইনি জলঘোলা ঘিরে রয়েছে এই বিতর্কিত ইউটিউবারকে:
-
২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা: ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সাকেত আদালতেই ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেন বিজেপি নেতা সুরেশ করমশি নাখুয়া। নাখুয়ার অভিযোগ, ধ্রুব তাঁর একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে তাঁকে ‘হিংস্র এবং গালিগালাজ করা ট্রোলার’ বলে অপমানজনক মন্তব্য করেছিলেন। জেলা বিচারক গুঞ্জন গুপ্তার আদালত সেই সময়ও ধ্রুবকে সমন ও নোটিস জারি করেছিল।
-
সনাতন ধর্ম ও দেবদেবী নিয়ে বিতর্ক: অমিত সচদেব নামের এক ব্যক্তি ধ্রুব রাঠির একটি ভিডিওর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীর দাবি, ভিডিওটিতে হিন্দু দেবদেবী ও সনাতন ধর্ম নিয়ে মারাত্মক আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৯৬ ও ২৯৯ ধারায় এফআইআর (FIR) রুজু করার আর্জি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কেন দেশের পরিবেশ নষ্ট করছেন? আমজনতার তীব্র ক্ষোভের মুখে অভিজিৎ দীপকে
১০ অক্টোবরের আটক-পর্ব
উল্লেখ্য, অতি সম্প্রতি ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আয়োজিত বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মসূচি ও মিছিলে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় ধ্রুব রাঠিকে আটক করে পুলিশ। দিল্লি ও গুরুগ্রাম পুলিশের যৌথ অভিযানে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এ অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২২ ঘণ্টা পুলিশি আটক থাকার পর অবশেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়।
পরপর সমন, এফআইআরের দাবি এবং আটক-পর্বের জেরে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির ভবিষ্যৎ ও আইনি সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই চোখ আইনজীবী ও রাজনৈতিক মহল উভয়েরই।


