বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা:
মহাসপ্তমীর রাতে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে কুড়ি জন পুজোপ্রার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। যখন হাজার হাজার মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের জীবন রক্ষা করতে লালবাজারের পুলিশ বাহিনীর ত্রাহি ত্রাহি রব তোলার কথা, ঠিক সেই সময়েই পুলিশ ও প্রশাসনের আসল তৎপরতা কোথায় ছিল—সেই প্রশ্ন তুলে তীব্র আক্রমণ শানাল রেভোলিউশনারি সোশালিষ্ট পার্টি (RSP)। চোরবাগান ট্র্যাজেডির দায় সরাসরি প্রশাসনের ওপর চাপিয়ে এক জোরালো ও ক্ষোভমিশ্রিত স্যোসাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়েছেন আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড়।
শনিবার সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তপন হোড় বলেন, “চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে এতগুলো তাজা প্রাণ চলে গেল, বহু মানুষ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন—আর এই চরম সঙ্কটের মুহূর্তে প্রশ্ন জাগে, তবে কি প্রশাসন ও পুলিশ অন্ধ ও বধির হয়ে বসেছিল? সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় যখন পুলিশকে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে হওয়ার কথা, তখন তারা কোথায় ছিল? সাধারণ মানুষ জানতে চাইছে, পুলিশ আসলে কী করছে?”
এর পরেই প্রশাসনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব নিয়ে সরাসরি তোপ দেগে আরএসপি রাজ্য সম্পাদক বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব ছেড়ে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়েছিল ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ দমনের কাজে। যখন উৎসবের রাতে মানুষের জীবন রক্ষা করা ছিল প্রধান কর্তব্য, তখন পুলিশ বুলডোজার ও লাঠি নিয়ে ব্যস্ত ছিল শহরের বিভিন্ন কোণায় বামপন্থীদের ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘদিনের বুকস্টলগুলো জোর করে উচ্ছেদ করতে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা শিকেয় তুলে পুলিশ আজ শুধু শাসকদলের পেটোয়া বাহিনী ও রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।”
চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুজো উদ্যোক্তাদের চরম গাফিলতি, পর্যাপ্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অভাব এবং পুলিশের এই দ্বৈতনীতি ও ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরএসপি নেতৃত্ব। একই সঙ্গে এই ঘটনায় নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং কাঠামোগত গাফিলতির সঙ্গে যুক্ত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানানো হয়েছে দলের তরফ থেকে।


