বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা:
মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে বহু দর্শনার্থীর মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করল এসইউসিআই (কম্যুনিস্ট) দল। এই বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায় রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ দপ্তরের ওপর চাপিয়ে দলটির রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য এক জোরালো বিবৃতি জারি করেছেন। বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সঠিক জনবিন্যাস ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে হাজার হাজার মানুষকে মণ্ডপে ঢুকতে দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হলো চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নিদর্শন।
এসইউসিআই (কম্যুনিস্ট)-এর রাজ্য সম্পাদক চণ্ডীদাস ভট্টাচার্য তাঁর বিবৃতিতে মূলত যে সমস্ত অভিযোগগুলি তুলে ধরেছেন, তা একনজরে নিম্নরূপ:
প্রশাসনিক গাফিলতি ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন: সঠিক পরিকল্পনা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের যথাযথ ব্যবস্থা না রেখেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ায় এই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবক ও পুলিশের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন: বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, পুজো মণ্ডপগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ কর্মী মোতায়েন করার কথা ছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে পুলিশকে তথাকথিত ‘গেরুয়া গেঞ্জি পরা স্বেচ্ছাসেবক’ নিয়োগ বা তাদের সাহায্য করতেই বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ: প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, যখন জনবহুল উৎসবে মানুষের জীবন রক্ষা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখাই পুলিশের প্রধান কর্তব্য হওয়া উচিত ছিল, তখন প্রশাসন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে ব্যস্ত ছিল। অভিযোগ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা না দেখে পুলিশ বুলডোজার দিয়ে বামপন্থী দলগুলির স্টল ভাঙচুরের কাজে বেশি মনোযোগী ছিল।
চোরবাগানের এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এসইউসিআই (কম্যুনিস্ট)। একই সঙ্গে উৎসবের দিনগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


