অসমের রাজনৈতিক পরিবেশ ফের উত্তপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বাধীন সরকারের ‘উচ্ছেদ অভিযান ৩.০’ চলছে। অবৈধ অধিবাসীদের বিরুদ্ধে চলতে থাকা এই অভিযানে এবার মিয়া মুসলিম সম্প্রদায় বিশাল বিক্ষোভ শুরু করেছে। গোলাঘাট জেলার দাহিকাটা রিজার্ভ ফরেস্ট এলাকায় গত ৯ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ৫৮৮টি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে, যা ১৫৩ হেক্টর জমির উপর ছড়িয়ে ছিল।
আরও পড়ুনঃ হারের হতাশা প্রকাশ সংসদে নয়! অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদের কড়া বার্তা মোদীর
এতে প্রধানত বাংলাভাষী মুসলিম পরিবারগুলো প্রভাবিত হয়েছে, এবং এর প্রতিক্রিয়ায় হাজারো মিয়া মুসলিম রাস্তায় নেমে এসেছে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের উপর হামলার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা নিজে বলেছেন, “যদি আজ অবৈধ মিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে কালকের অসমের ভবিষ্যৎ আরও বড় হুমকির মুখে পড়বে। এই ভয়টা ভালোই এটা আমাদের সতর্ক করে।”
এই অভিযানের পটভূমি খুবই জটিল এবং রাজনৈতিকভাবে চার্জড। অসমে বাংলাভাষী মুসলিমদের ‘মিয়া’ বলে অভিহিত করা হয়, যা মূলত একটি অবমাননাকর শব্দ হলেও সম্প্রদায়টি এটিকে এখন নিজেদের পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সাল থেকে বিজেপি সরকারের আমলে এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চলছে, কিন্তু ২০২১ সালে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এর তীব্রতা বেড়েছে।
জুন ২০২৫-এ পুনরায় শুরু হওয়া এই ‘ফেজ ৩.০’-এ গোলাঘাট, লখিমপুর, ধুবড়ি, নালবাড়ি এবং গোয়ালপাড়া জেলাগুলোতে ফোকাস করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এগুলো বনভূমি, পশুপালন রিজার্ভ এবং রাজস্ব জমির উপর অবৈধ অধিবাস। গত কয়েক মাসে ১০,৫৩৭ বিঘা (প্রায় ১,৪০০ হেক্টর) জমি মুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রায় ২,২০০ পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শর্মা গত ৩ নভেম্বর এক সভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, “অবৈধ মিয়াদের কোনো শান্তি নেই, যতদিন আমি ক্ষমতায় আছি।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের সঞ্চার করেছে।

বিক্ষোভের দৃশ্যগুলো হৃদয়বিদারক। দাহিকাটা ফরেস্টের ধ্বংসাবশেষের মাঝখানে হাজারো মহিলা-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ রাস্তায় নেমে এসেছে। ‘আমরা অসমের নাগরিক, উচ্ছেদ নয়, ন্যায় চাই’ এই স্লোগানে গর্জন করছে ভিড়। অল অসম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএমএসইউ) এবং অন্যান্য সংগঠনগুলো এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত সপ্তাহে গোলাঘাটে একটি বড় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেছে, “আমরা দশকের পর দশক ধরে এখানে বাস করছি।
আরও পড়ুনঃ অনলাইনে অ*শ্লী*ল ভিডিও দেখতে এবার লাগতে পারে আধার বা প্যান কার্ড! কেন্দ্রকে প্রস্তাব সুপ্রিম কোর্টের
এই জমি আমাদের কৃষিকাজের জীবিকা। কোনো আইনি দলিল না থাকলেও আমাদের ঐতিহ্যগত অধিকার আছে।” কিন্তু প্রশাসনের অভিযোগ অন্যরকম। অভিযানের সময় কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশ এবং বুলডোজার অপারেটরদের উপর পাথর নিক্ষেপ করার চেষ্টা করেছে, যা সংঘর্ষের দিকে নিয়ে গেছে। একজন স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “এটা শুধু বিক্ষোভ নয়, প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।
আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছিলাম, কিন্তু তারা হামলা চালিয়েছে।” এতে কয়েকজন আহত হয়েছে, এবং অ্যান্টি-রায়ট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের ‘আক্রমণাত্মক’ আচরণ দেখা যাচ্ছে, যা অনেকের মধ্যে হাস্যরস এবং অবাক করার সাথে সাথে ভয়ের অনুভূতি জাগিয়েছে।









