ফের জোরালো ভূমিকম্প। এই কম্পন হয় উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬.৫। যে অঞ্চলে এই কম্পন হয় তা জাপানের কাছেই।
আরও পড়ুনঃ ক্ষতির মুখে উত্তরবঙ্গের পর্যটন, বুকিং বাতিলে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সেসমোলজি জানিয়েছে, ভারতীয় সময় সোমবার (ইংরেজি মতে মঙ্গলবার) রাত ৩টে ২২ মিনিট নাগাদ এই কম্পন হয়। ৬.৫ মাত্রার এই কম্পনের উৎস ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৮০ কিলোমিটার গভীরে। এই কম্পন হয় টোকিও থেকে প্রায় ৬৭৬ কিলোমিটার দূরে। তবে এর জেরে কোনও ক্ষতি হয়েছে কী তা জানা যায়নি। এবার কি তাহলে দেড় দশক আগের ভয়াবহ সেই ফুকুশিমার স্মৃতি ফিরতে চলেছে জাপানে?
জানা গিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫মিনিট নাগাদ জোরালো ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে জাপানের উত্তর-পূর্ব উপকূল। এর পরই জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তরফে হোক্কাইডো, আওমোরি এবং ইওয়াতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। জানানো হয়েছে, সমুদ্রের ঢেউ ১০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে গোটা জাপানজুড়ে।
আরও পড়ুনঃ মদ্ভাগবত গীতার সৃষ্টি ১৭৮৫ সালে! অবাক হলেন? ইতিহাস বড় নির্মম
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকাগুলি ফাঁকা করতে শুরু করেছে সেদেশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। ভূমিকম্পের পরই সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে। তবে ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে সেদেশের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে। এমনটাও জানা গিয়েছে সূত্র মারফত। আপাতত উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বাসিন্দাদের না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এই ভূমিকম্প ১৪ বছর আগের ফুকুশিমার ভয়ানক স্মৃতি ফেরাতে পারে।
সোমবার সন্ধ্যায় উত্তর-পূর্ব জাপানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূমিকম্প হ।। জাপানের উত্তরে মিসাওয়া শহর থেকে প্রায় ৭৩ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে প্রথম ভূমিকম্প অনুভূত হয়। তার পরে একে একে কেঁপে ওঠে হোক্কাইডো, আমোরি ও ইওয়া শহর। ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে। ফাটল ধরে যায় একাধিক রাস্তায়। আতঙ্কে খোলা রাস্তায় এসে দাঁড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা। এই কম্পনে অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi) সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে জানান, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা দ্রুত নির্ণয়ের জন্য সরকার একটি জরুরি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। তিনি বলেন, “আমরা মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি এবং আমাদের সাধ্যমতো সবকিছু করছি।” এই অঞ্চলের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।









