মিনিট পঞ্চাশেকের মধ্যে যে বসতিটা দশ-বারো বছর ধরে গড়ে উঠেছিল, তা সমান হয়ে গেল মাটির সঙ্গে।এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙাইগাঁওয়ের জেলাশাসক নবনীত মহন্ত এবং এসপি মৃণাল দত্ত। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন চার কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী। প্রশাসনের হিসেবে, মোট ১৪.৭ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রেলের জমিও রয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১৮০-র কাছাকাছি।
আরও পড়ুনঃ জেলে বসেই সাক্ষীকে খুনের ছক শাহজাহানের? ছেলে-ড্রাইভারের মৃত্যু, আশঙ্কাজনক ভোলা ঘোষ
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বিকেলে গুয়াহাটি থেকে এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “অসম কারও বাপের সম্পত্তি নয়। সরকারি জমি দখল করে বসে থাকলে আর ছাড় নেই। যেই হোন, যে ধর্মেরই হোন অবৈধ দখলদারকে ছাড়া হবে না। আজ বঙাইগাঁও থেকে ১৫ একর জমি ফিরিয়ে আনলাম। এটা শুধু শুরু।”তিনি আরও লেখেন, “যাঁরা ভাবছেন ভোটব্যাঙ্কের ভয়ে আমরা পিছু হটব, তাঁদের স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি অসমের মাটি, অসমের আইন, অসমের সরকার।
এখানে জঙ্গলরাজ চলবে না।”উচ্ছেদের পর পরই সেই জমিতে বসানো হলো সাইনবোর্ড এই জমি অসম সরকারের সম্পত্তি। অবৈধ দখল করা আইনত দণ্ডনীয়।’ স্থানীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহে আরও দুটি এলাকায় একই ধরনের অভিযান হবে।

উচ্ছেদ হওয়া মানুষদের মধ্যে অনেকেই বলছেন, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন, ভোটার কার্ড-আধার কার্ড আছে, কিন্তু পাট্টার নেই। এক মহিলা কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমরা কোথায় যাব? ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, এখন সব শেষ।” আরেকজন বৃদ্ধ বললেন, “আমরা তো ১৯৯১-এর আগে এসেছি, তাহলে অনুপ্রবেশকারী কেন?”
আরও পড়ুনঃ এ সব কি হচ্ছে বাংলায়! কুলপিতে মৌলবাদী হামলায় মাথা কাটা গেল বজরংবলীর
কিন্তু প্রশাসনের জবাব একটাই কাগজ দেখান। কাগজ না থাকলে জমি সরকারের। জেলাশাসক বলেছেন, “যাঁদের সত্যিই বৈধ দাবি আছে, তাঁরা আদালতে যেতে পারেন। কিন্তু সরকারি জমি আর দখল করে রাখা যাবে না।”এই উচ্ছেদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বিজেপি নেতারা বলছেন, এটা অসমের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, এটা নির্বিচারে একটি সম্প্রদায়কে টার্গেট করা। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ বলেছেন, “মানবিক দিকটা দেখতে হবে। শীতের মধ্যে মানুষকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া কি কি মানবতা?”









