শীত যতই জাঁকিয়ে পড়ুক, বাজারে সবজির দামে তার প্রভাব যেন পড়ছেই না । বরং ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দর মধ্যবিত্তের পকেটে চাপ বাড়িয়েই চলেছে। ঠান্ডার সকালে বাজারে গিয়ে সাধারণ ক্রেতারা দেখছেন নতুন ফসল উঠলেও সবজির দামে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি মিলছে না। বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতাদের দরদাম, আক্ষেপ আর ক্ষোভে প্রতিদিনই সরগরম হয়ে উঠছে শহর ও গ্রামের বাজার।
আরও পড়ুনঃ শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় আপডেট! আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ এই জেলার সব স্কুল
এখনকার বাজারদরের দিকে তাকালে স্পষ্ট, পেঁয়াজ-টমেটোর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিই হোক বা শীতকালীন নানা শাকসবজি প্রায় সব ক’টির দামই গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চড়া। বড় পেঁয়াজ খুচরো বাজারে কেজি প্রতি ৩৬ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে বিকোচ্ছে। ছোট পেঁয়াজের দাম আরও বেশি, কোথাও কোথাও ৭৬ টাকা ছুঁয়েছে। টমেটোর ক্ষেত্রেও একই ছবি কেজি প্রতি ৪৬ থেকে ৬৩ টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
কাঁচা লঙ্কার দামও স্বস্তির জায়গায় নেই। বাজারে লঙ্কা বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে ৬৮ টাকা কেজি দরে। ফলে নিত্যদিনের রান্নায় ঝাল যোগ করতেও এখন বাড়তি খরচ হচ্ছে। বিট, আলু কিংবা কাঁচা কলার মতো তুলনামূলক সস্তা সবজিগুলির দামও ক্রমশ বাড়ছে। আলু কেজি প্রতি ৪২ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে, বিট ৩৬ থেকে ৫০ টাকা এবং কাঁচা কলা ১২ থেকে ১৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শীত মানেই সাধারণত বাজার ভরে যায় শাকসবজিতে। কিন্তু বাস্তবে সেই ছবিটা এবার ধরা পড়ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। লাল শাক বা আমরান্থ পাতা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৬ থেকে ২১ টাকায়। বাঁধাকপি তুলনামূলক কিছুটা কম হলেও কেজি প্রতি ৩৫ থেকে ৪৮ টাকা গুনতে হচ্ছে।
ফুলকপি, ক্যাপসিকাম, করলা, লাউয়ের মতো সবজির দামও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটের হিসেব ওলটপালট করে দিচ্ছে। ক্যাপসিকাম ৪৮ থেকে ৬৬ টাকা, করলা ৪৯ থেকে ৬৮ টাকা এবং লাউ ৩৭ থেকে ৫১ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ পরপর বিস্ফোরণ, কাঁকুড়গাছিতে মাঝরাতে আতঙ্ক
সবচেয়ে বেশি চোখ কপালে উঠছে আমলার দামে। শীতকালীন এই পুষ্টিকর ফল কেজি প্রতি ১১৪ থেকে ১৫৭ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে। বাজারে আমলা দেখলেই অনেকেই মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছেন। বেবি কর্ন, বরবটি, শিমের মতো সবজিগুলির দামও তুলনামূলক ভাবে বেশি। বেবি কর্ন ৫৬ থেকে ৭৮ টাকা, বরবটি ৪৭ থেকে ৬৪ টাকা এবং মাখনশিম বা বাটার বিনস ৫৬ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারের এই দামের জন্য বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন পরিবহণ খরচ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আড়তদারদের উপর। তাঁদের বক্তব্য, মাঠে সবজি উঠলেও তা ঠিকমতো বাজারে পৌঁছচ্ছে না, ফলে জোগান কম থাকছে। আবার অনেক কৃষকের দাবি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা কম দামে সবজি ছাড়তে পারছেন না।
অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ শীতকাল মানেই সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সেই ছবিটা আর দেখা যায় না। সংসার চালাতে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের তালিকা ছোট করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। কেউ কেউ বলছেন, মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজির দামই এখন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, শীত বাড়লেও বাজারে সবজির দামে স্বস্তি নেই। কবে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে সেই স্বস্তির হাওয়া লাগবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।









