spot_img
Thursday, 15 January, 2026
15 January
spot_img
Homeদক্ষিণবঙ্গTarit Baran Topdar: রাজনীতি সচেতন প্রগতিশীলদের কাছে বিশেষ আবেদন তড়িৎবরণ তোপদারের

Tarit Baran Topdar: রাজনীতি সচেতন প্রগতিশীলদের কাছে বিশেষ আবেদন তড়িৎবরণ তোপদারের

তিনি লিখেছেন, “ঢাকার খবর আনন্দবাজারে যা আছে, তার সঙ্গে গণশক্তির খবর মিলিয়ে দেখুন বা তুলনা করুন।”

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বাম রাজনীতির একসময়ের দাপুটে মুখ তড়িৎবরণ তোপদার ফের আলোচনায়। তবে এবার কোনও মিছিল, সভা বা সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয় বরং সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক আবেদন ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক ও আলোচনা।

আরও পড়ুনঃ চিকেন নেক রক্ষায় নয়া পদক্ষেপ ভারতীয় সেনার

রাজনীতি সচেতন, বামমনস্ক ও প্রগতিশীল মানুষদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিয়ে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন গণশক্তি পত্রিকার পাশে দাঁড়াতে এবং তার পাঠক ও গ্রাহক সংখ্যা বাড়াতে। রাজ্যে বর্তমান সময়ে বামেরা যখন বিলুপ্তির পথে, ঠিক সেই সময়েই বাম মনস্কতা এবং বামপন্থী গণমাধ্যম বাঁচানোর এই আবেদন সাড়া ফেলেছে।

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তড়িৎবরণ তোপদার স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গণশক্তির প্রথম পাতা এবং তার হেডলাইনগুলির গুণগত মান এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা আনন্দবাজার পত্রিকাকেও টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তাঁর মতে, শুধু রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, খবর পরিবেশনের গভীরতা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং সাহসী অবস্থান এই সব দিক থেকেই গণশক্তি এখন মূলধারার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে।

এই বক্তব্যের সমর্থনে একটি নির্দিষ্ট উদাহরণও তুলে ধরেছেন তড়িৎবরণ। তিনি লিখেছেন, “ঢাকার খবর আনন্দবাজারে যা আছে, তার সঙ্গে গণশক্তির খবর মিলিয়ে দেখুন বা তুলনা করুন।” তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক কালে একাধিক এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেখানে গণশক্তির সংবাদ পরিবেশন আরও বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে হাজির হয়েছে।

তড়িৎবরণের এই মন্তব্য শুধু একটি সংবাদপত্রের প্রশংসা নয়, বরং বর্তমান মিডিয়া পরিস্থিতির প্রতিও এক ধরনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, মূলধারার সংবাদমাধ্যমের একাংশের উপর কর্পোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাব বেড়েছে—এই অভিযোগ বহুদিনের। সেই প্রেক্ষিতে বিকল্প ও মতাদর্শভিত্তিক সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করার আহ্বানই মূলত করেছেন তড়িৎবরণ তোপদার।

পোস্টের শেষাংশে তিনি সরাসরি আবেদন জানিয়েছেন—গণশক্তির গ্রাহক ও পাঠক সংখ্যা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে তোলার জন্য প্রত্যেক বামমনস্ক, রাজনীতি সচেতন ও প্রগতিশীল ব্যক্তির এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তাঁর মতে, কেবল সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন জানালেই হবে না, বাস্তবে সংবাদপত্রটির পাশে দাঁড়ানোই এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ ‘দীপুর হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই’! বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম বিবৃতি দিল ভারত

এই আহ্বান ঘিরে বাম রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থী মতাদর্শের সংবাদমাধ্যমগুলি আর্থিক সংকটে ভুগছে। সেই পরিস্থিতিতে তড়িৎবরণের মতো অভিজ্ঞ নেতার এমন প্রকাশ্য সমর্থন গণশক্তির জন্য বড় অক্সিজেন হতে পারে। আবার অন্য একাংশের মতে, আনন্দবাজারের সঙ্গে তুলনা টানা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক উসকে দিতে পারে।

তবে এটাও সত্যি যে ডিজিটাল যুগে সংবাদপত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার। প্রিন্ট মিডিয়ার পাঠকসংখ্যা যেখানে ক্রমশ কমছে, সেখানে মতাদর্শভিত্তিক কাগজকে বাঁচিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তড়িৎবরণ তোপদারের আবেদন সেই চ্যালেঞ্জকেই সামনে এনে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি পত্রিকার প্রচারের বিষয় নয়। বরং এটি বাম রাজনীতি, বিকল্প মিডিয়া এবং প্রগতিশীল চিন্তাধারার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। তড়িৎবরণ তোপদারের আহ্বান কতটা সাড়া ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট এই বার্তা নতুন করে আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে বামপন্থী মিডিয়ার ভূমিকা ও দায়িত্বের প্রশ্নকে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন