বিহারে ফের মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনা। আসানসোল থেকে সীতামারহি যাওয়ার পথে একটি মালগাড়ির ১৯টি বগি বেলাইন হয়ে যায়। শনিবার রাতে সিমুলতলা স্টেশনের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার জেরে রেলপথে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং দূরপাল্লার বহু ট্রেন আটকে পড়েছে। রাতভর উদ্ধার ও মেরামতির কাজ চলায় যাত্রীদের চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ হাড়কাঁপানো ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা; একাধিক শহরে বাতিল বহু উড়ান
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে, যখন মালগাড়িটি দ্রুতগতিতে ওই রেলপথ অতিক্রম করছিল। হঠাৎ করেই একের পর এক বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা শব্দ শুনে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে রেল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে খবর দেন। সৌভাগ্যবশত, এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। দ্রুত উদ্ধারকারী দল, রেল ইঞ্জিনিয়ার এবং নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। লাইনচ্যুত বগিগুলি সরানোর জন্য ভারী ক্রেন আনা হয়েছে। তবে একসঙ্গে ১৯টি বগি বেলাইন হওয়ায় উদ্ধারকাজ বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। ফলে শনিবার রাত থেকেই ওই রুটে ট্রেন চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ এনসিপি-র অন্দরে ফাটল আরও চওড়া! এনসিপি ছাড়লেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা
এই দুর্ঘটনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিষেবার উপর। জানা গিয়েছে, বিহার ও ঝাড়খণ্ড হয়ে চলাচলকারী একাধিক দূরপাল্লার ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু ট্রেন বাতিলও করা হয়েছে। যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ট্রেনের ভিতর অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অনেক স্টেশনে খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থার জন্য রেল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হয়েছে।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, রেললাইনের কোনও ত্রুটি অথবা যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট রেল বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখছেন বলে জানানো হয়েছে।









