বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আজ মঙ্গলবার এক শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আরও পড়ুনঃ বছরের প্রথম দিনেই শপথ নেবেন কম্যুনিস্ট জোহরান মামদানি; স্মরণকালের বৃহত্তম পার্টির ঘোষণা
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বার্তায় বলেন, “ঢাকায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের সংবাদ শুনে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর পরিবার এবং বাংলাদেশের সকল মানুষের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা রইল। এই অপূরণীয় ক্ষতি সইবার জন্য সর্বশক্তিমান তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।”
বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথা স্মরণ করে মোদী বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়ন এবং ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান সর্বদা স্মরণে থাকবে।”
নরেন্দ্র মোদী ২০১৫ সালে তাঁর ঢাকা সফরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “২০১৫ সালে ঢাকায় তাঁর (খালেদা জিয়া) সঙ্গে আমার চমৎকার বৈঠকের কথা এখনো মনে পড়ে। আমরা আশা করি, তাঁর স্বপ্ন এবং উত্তরাধিকার আমাদের দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আগামীতেও পথ দেখাবে।”
বার্তার শেষে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুনঃ সর্বস্বান্ত হলেন ব্যবসায়ীরা! ভস্মীভূত ২০০-এর অধিক দোকান; পুড়ে ছাই যদুবাবুর বাজার
দু’জনেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। দু’জনেই দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনীতির দুই বিপরীত মেরুর প্রতীক। তবু সময়ের আহ্বানে এলো সৌজন্যের বার্তা। মঙ্গলবার বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শোকপ্রকাশ করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দলের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অপরিসীম। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি ও বিএনপি নেতৃত্ব এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ল।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক বৈরিতার ইতিহাস সত্ত্বেও এই শোকবার্তাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক তাৎপর্যপূর্ণ সৌজন্য হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক মহল।









