কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকের আইপ্যাক অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তল্লাশি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা। অভিযানের প্রতিবাদে পথে নামে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মমতার বিরুদ্ধে ইডি-কে পদক্ষেপের আর্জি শুভেন্দুর
তৃণমূলের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিত ভাবে ইডিকে ব্যবহার করে শাসক দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে। দলের অভিযোগ, শুধুমাত্র হেনস্থা করাই নয়, তৃণমূলের কৌশল, প্রার্থী সংক্রান্ত নথি এবং গুরুত্বপূর্ণ দলীয় কাগজপত্র হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পুরো প্রক্রিয়াই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে হচ্ছে বলে দাবি শাসক দলের। এই ইস্যুর প্রতিবাদে হাজরায় পথে নামেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তাদের হাতে দেখা যায় একাধিক পোস্টার, প্ল্যাকার্ড।
এ দিন সকালে প্রতীক জৈনের লাইডন স্ট্রিটের বাড়িতে ইডির তল্লাশি চলাকালীনই সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁকে একটি সবুজ রঙের ফাইল হাতে বাড়ি থেকে বেরোতে দেখা যায়। সেখান থেকে তিনি সরাসরি সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে যান।
এর পর এলাকায় নজরে আসে একটি সাদা স্করপিও গাড়ি, যার ভিতরে একাধিক ফাইল রাখা ছিল। কাচ তোলা গাড়ির ভেতর দিয়ে নীল ও হলুদ রঙের ফাইল এবং গুচ্ছ গুচ্ছ নথি স্পষ্ট দেখা যায়। ফাইলগুলির গায়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের নাম লেখা ছিল বলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
আরও পড়ুনঃ গাড়ির নম্বর WB06Y5555, র্যাফ থেকে পুলিশ রয়েছে ঘিরে, সিটে পড়ে সরকারের গাদা-গাদা ফাইল, গাড়ি রহস্য!
যদিও ওই ফাইলগুলিতে ঠিক কী ধরনের নথি রয়েছে বা কোন দফতরের তথ্য আছে – সে বিষয়ে কোনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। গাড়িগুলির চারপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাজ্য পুলিশ। কাউকে কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। পুরুষ পুলিশের পাশাপাশি মহিলা পুলিশও মোতায়েন করা হয়।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অমিত শাহকে নিশানা করেন। কড়া ভাষায় তিনি বলেন, “এই ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার দেশকে রক্ষা করতে পারেন না। আমার দলের সব তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে। যদি আমরা বিজেপির অফিসে তল্লাশি চালাই, তা হলে কী হবে?”
এ দিনের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী এসআইআর ইস্যুতেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। “২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সব করা হচ্ছে,” বলেন মমতা।









