পদ্মপুরাণে উল্লিখিত সরস্বতীস্তোত্রম্–এ বর্ণিত হয়েছে ━
❝ শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা।
শ্বেতাম্বর ধরা নিত্যং শ্বেতগন্ধানুলেপনা॥
শ্বেতাক্ষসূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চ্চিতা।
শ্বেতবীণাধরা শুভ্রা শ্বেতালঙ্কারভূষিতা॥
বন্দিতা সিদ্ধগন্ধবৈচিতা সুরদানবৈঃ।
পূজিতা মুনিভিঃ সর্ব্বৈ ঋষিভিঃ ভূয়তে সদা॥ ❞
অনুবাদ: “দেবী সরস্বতী সাদা পদ্মফুলের আসনে উপবিষ্টা, সাদা ফুলের দ্বারা সজ্জিতা, মুক্তা বা স্ফটিকের সাদা জপমালাধারিণী, সাদা চন্দন যুক্তা, সাদা রঙের বীণা যন্ত্র ধারণ করে আছেন, যিনি শুভ্রকান্তি এবং সাদা অলংকার ভূষিতা, তিনি সিদ্ধ, গন্ধর্ব, দেবতা, অসুর সকলের দ্বারা বন্দিতা, সমস্ত মুনি-ঋষি তাঁর পূজা ও স্তুতি করেন।”
আরও পড়ুনঃ আঁউনী-বাউনী উৎসব! নিজস্ব রীতিতে উত্তরবঙ্গেও সারম্বরে পালিত হয়, পৌষ পার্বণ
সরস্বতীর একাধিক রূপভেদ আছে। বঙ্গদেশে তাঁর দ্বিভুজা বীণাপাণি রূপের পূজার প্রচলন আছে, অন্যান্য স্থানে তিনি চতুর্ভুজা। পুষ্পমাল্য শোভিত চতুর্ভুজা দেবী সরস্বতীর পরনে শুভ্র বস্ত্র, হংসবাহিনী, এক হাতে পুস্তক যা জ্ঞানের প্রতীক, এক হাতে জপমালা এবং অপর দুই হাতে বীণা বাজিয়ে ভগবানের মহিমা কীর্তনে রত। প্রকৃতপক্ষে তাঁর এই মূর্তিতে গভীর তত্ত্ব নিহিত রয়েছে ━
✸তাঁর এক হাতে পুস্তক বিদ্যা তথা জ্ঞানের প্রতীক, এক হাতে জপমালা সাধনা তথা ভক্তির প্রতীক, অপর দুই হাতে বীণা শিল্পকলার প্রতীক।
✸তিনি শ্বেতপদ্মের উপর বসে আছেন। পদ্ম গভীর কাদায় তথা পঙ্কে জন্মায়, কিন্তু কাদা তাকে স্পর্শ করে না। কাদা ভেদ করে সে সূর্যালোকের দিকে ধাবিত হয়। তেমনি সরস্বতীর কৃপায় যার অজ্ঞানতা দূর হয়ে জ্ঞান চক্ষু উন্মীলিত হয়েছে, তিনি জড়জগতের পাপপঙ্কিলতা ভেদ করে পরমেশ্বর ভগবানের শ্রীপাদপদ্মের আকাঙ্ক্ষায় ধাবিত হন।
আরও পড়ুনঃ রামায়ণ কি শুধুই কল্পনা? আইনি ও বৈজ্ঞানিক দলিলে সত্যটা বেশ কঠিন
✸দেবীর বাহন রাজহংস। হংস জলে সাঁতার কাটলেও জল তাকে স্পর্শ তথা সিক্ত করতে পারে না। তেমনি যার ভগবত্তত্ত্বজ্ঞান আছে, তিনি জাগতিক পরিবেশে বিচরণ করলেও জাগতিক মোহমায়া তাকে স্পর্শ করে না।
✸মাতা সরস্বতীর মধ্যে আমরা শ্বেত বর্ণের প্রাধান্য পাই। শ্বেত তথা সাদা রংটি সত্ত্বগুণ, শুদ্ধতা, নির্মলতা এবং জ্যোতির্ময়তার প্রতীক।









