কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
ড় বিপাকে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মন । বিডিওর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল তাঁকে । তাঁর জায়গায় মঙ্গলবার রাজগঞ্জের বিডিওর চেয়ারে বসলেন সৌরভকান্তি মণ্ডল । তিনি রাজগঞ্জের জয়েন্ট বিডিও ৷
আরও পড়ুনঃ “ঠাকুর ঘরে কে…”! বেরল গর্ত থেকে ইঁদুর
সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে খুনে অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মনের জামিনের আবেদন নাকচ হয়ে যায় । সুপ্রিম কোর্টের আত্মসমর্পণের নির্দেশের 24 ঘণ্টার মধ্যেই বিডিও বদল করা হল রাজগঞ্জে । এদিন সৌরভকান্তি মণ্ডলকে সংবর্ধনা দিতে রাজগঞ্জ বিডিও অফিসে পৌছে যান বিধায়ক খগেশ্বর রায় । তিনি বলেন, “রাজগঞ্জের বিডিওর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সৌরভকান্তি মণ্ডলকে । তাই তাঁকে সংবর্ধনা দিতে এসেছিলাম ।”
রাজগঞ্জ ব্লকের সদ্য দায়িত্ব পাওয়া বিডিও সৌরভকান্তি মণ্ডল বলেন, “আমাকে বিডিওর দায়িত্ব সামলানোর কথা বলা হয়েছে । প্রশাসনের নির্দেশে আমি বিডিও-র দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি । প্রশাসন যেভাবে বলে সেই ভাবেই কাজ করব ।”
গত বছর 28 অক্টোবর বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকার নিউটাউন থেকে স্বপন কামিলা নামে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেহ উদ্ধার হয় ৷ দু’দিন পর তাঁর শ্যালক দেবাশিস কামিলা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেন ৷ সেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মনের ৷
আরও পড়ুনঃ আবারও কৃষিতে বাংলায় সবুজ বিপ্লব! খবর দিলেন মমতা
ইতিমধ্যেই পুলিশ তদন্তে নেমে দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে । একজনের নাম রাজু ঢালি ও অন্যজনের নাম তুফান থাপা ৷ রাজু ঢালি প্রশান্ত বর্মনের গাড়ির চালক বলে দাবি করা হয়েছে । প্রশান্ত বর্মন কালচিনির বিডিও হিসেবে থাকাকালীন তুফান থাপা তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিলেন বলে অভিযোগ । যদিও এই ঘটনায় প্রথম থেকে প্রশান্ত বর্মন নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ৷ ওই মামলায় নিম্ন আদালত থেকে প্রশান্ত বর্মন আগাম জামিন পান ৷ কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই জামিন খারিজ করে তিনদিনের মধ্যে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয় ৷ প্রশান্ত বর্মন আত্মসমর্পণ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন । কিন্তু শীর্ষ আদালতও তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে ৷
গত 22 ডিসেম্বর সোমবার সকালে রাজগঞ্জের ফাটাপুকুরে সারদামণি হাইস্কুলে মা সারদার 173তম আবির্ভাব দিবস উদযাপন করতে গিয়েছিলেন বিডিও । সেই দিনই কলকাতা হাইকোট জামিনের আবেদন নাকচ হওয়ার পরেই বিডিও গা ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ ।
এদিকে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা প্রশান্ত বর্মন নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাইছেন না । বিডিওকে তাঁর সরকারি নম্বরে বার বার ফোন করা হলে রিং হয়ে গেলেও তিনি ফোন ধরেননি । রাজগঞ্জ ব্লকের প্রশাসনিক প্রধান অফিসে না-থাকার কারণে বিপাকে পড়েছেন রাজগঞ্জবাসী । এরপেরই পাকাপাকিভাবে সৌরভকান্তি মণ্ডল বিডিও-র চার্জ দেওয়া হল ।









