আইটেম নম্বর ৩৭! সুপ্রিম কোর্টে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা এসআইআর মামলার সিকুয়েন্স নম্বর। বাংলা তো বটেই, গোটা দেশের নজর ছিল আজ সুপ্রিম কোর্ট। স্বাধীনতার পর দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবার। কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক প্রধান নিজেই সওয়াল করলেন সুপ্রিম কোর্টে, তাও আবার নিজেরই করা মামলায়।
আরও পড়ুনঃ নিজের মামলায় নিজেই বক্তব্য রাখতে লিখিত আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর, শুনানি কক্ষেই মমতা
সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের বাইরে টান টান উত্তেজনা। সাংবাদিকদের ভিড়। সেই ভিড়ের মাঝেই সকাল দশটার কিছু আগে সুপ্রিম কোর্টে ঢোকেন মমতা। বেলা ১টার পর শুরু হয় শুনানি। প্রথম থেকেই হাজির ছিলেন মমতা। কিন্তু প্রথম তিনি বসেছিলেন পিছনের সারিতে। শুনানি শুরুর কিছু সময় পরে তিনি চলে আসেন একেবারে সামনের সারিতে। আইনজীবীদের সঙ্গেই দাঁড়ান তিনি।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে শুরু হয় ৩৬ ও ৩৭ নম্বর এসআইআর মামলার শুনানি। প্রথমে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলা শোনেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই মামলার সঙ্গেই মমতার করা মামলাটি শোনা হয়।
আরও পড়ুনঃ বদলেছে একাধিক ট্রেনের দাঁড়ানোর জায়গা; NJP প্ল্যাটফর্মে বড় পরিবর্তন
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের করা এসআইআর সংক্রান্ত মামলা শুনছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। এই মামলার সঙ্গেই মমতার করা মামলাটি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু মমতা এক-দু’কথা বলার মাঝেই থামেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি বললেন, “দুঃখিত ম্যাডাম আপনাকে বিরক্ত করছি।”
তখন মুখ্যমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির কাছে ৫ মিনিট সময় চান। তিনি বলেন, ‘মাই লর্ড, কেবল পাঁচ মিনিট সময় নেব।’ প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, “৫ মিনিট কেন? আপনি ১৫ মিনিট বলতে পারেন, তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মামলায় আইনজীবীরা সওয়াল করছেন।” তখনই প্রধান বিচারপতি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি মামলা করেছে। এই আদালতের অন্যতম সেরা আইনজীবীরা সেখানে উপস্থিত রয়েছেন। কপিল সিব্বল সেখানে সওয়াল করছেন।” তখন থেমে যান মমতা। কপিল সিব্বল বলা শুরু করেন। এরপরই সওয়াল শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী, যা আজ গোটা দেশ দেখে।









