২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনীতিতে এখন ‘ভাতার লড়াই’। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করে তৃণমূল যখন মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিদ্র করতে চাইছে, ঠিক তখনই পাল্টা বড় চাল চাললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ ঘোষণা, “ক্ষমতা বদল করুন, বিজেপি এলে জুন মাস থেকেই মহিলারা মাসে ৩০০০ টাকা করে পাবেন।”
আরও পড়ুনঃ শিল্পহীন রাজ্যে শুধু ‘ভাতা আর ভাতা’! ভোটমুখী ‘দিশাহীন-কর্মসংস্থানহীন’ বাজেটে ‘কল্পতরু’ মমতা
এদিন বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশের সময় অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা এখন থেকে ১৫০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাবেন। ২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি থেকেই এই বর্ধিত টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ‘জনমোহিনী’ পদক্ষেপ নিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাজেট ঘোষণার পরপরই বিধানসভার বাইরে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, আইপ্যাকের বুদ্ধিতে শুধুমাত্র ভোটের কথা মাথায় রেখেই এই ভাতা বাড়ানো হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, “আমি আমাদের সংকল্পপত্র কমিটির কনভেনরকে পাশে দাঁড় করিয়ে বলছি, এপ্রিল মাসে বিজেপি সরকার এলে ১ জুনের আগেই আপনাদের অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে ঢুকবে।”
আরও পড়ুনঃ নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে শৈলরানির ‘খেলনা গাড়ি’-কে; আকর্ষণ বাড়াতে টয়ট্রেনে বিয়ের ভাবনা
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “গোয়াতে তৃণমূল মহিলাদের ৫০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু বাংলায় কেন মাত্র ১৫০০ টাকা? বিজেপি যা বলে তা করে দেখায়।” পার্শ্বশিক্ষক, সিভিক ভলান্টিয়ার এবং যুবশ্রী নিয়ে বাজেটের ঘোষণাগুলিকেও ‘অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।
২০২১-এর জয়ের কাণ্ডারি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। চব্বিশের লোকসভাতেও তার প্রতিফলন দেখা গেছে। এবার ছাব্বিশের ভোটের আগে সেই প্রকল্প নিয়েই রাজকীয় দরাদরিতে নেমেছে শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই। একদিকে তৃণমূলের ১৫০০-১৭০০ টাকার ‘গ্যারান্টি’, অন্যদিকে বিজেপির ৩০০০ টাকার ‘প্রতিশ্রুতি’। শেষ পর্যন্ত বাংলার মহিলাদের আস্থা কোন দিকে ঝোঁকে, এখন সেটাই দেখার।









