ডাঃ অনিন্দ্য হালদার,
সাধারণত পপ-কালচার, সিনেমা বা সোশ্যাল মিডিয়াতে সমলিঙ্গীয় সম্পর্ককে অনেকটা গতানুগতিক নারী-পুরুষের সম্পর্কের আদলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানে ধরে নেওয়া হয় যে, যে ব্যক্তি বেশি ম্যাসকুলিন বা টপ, তাকে লম্বায় বড় এবং দেখতে বেশি সুদর্শন হতে হবে। এটি একটি সামাজিক সংস্কার, কোনো বৈজ্ঞানিক বা ধ্রুব সত্য নয়। সৌন্দর্য বা উচ্চতা প্রাথমিক আকর্ষণের কারণ হতে পারে, কিন্তু একে “ভালোবাসা” বলা যায় না। ভালোবাসা নির্ভর করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, মানসিক সামঞ্জস্য এবং একে অপরের বিপদে পাশে থাকার ওপর। উচ্চতা, পেশিবহুল শরীর বা তথাকথিত “হ্যান্ডসাম” লুকের চেয়ে সঙ্গীর ব্যক্তিত্ব, সততা এবং স্বচ্ছতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন টপ যদি খুব সুন্দর হয় কিন্তু তার মনে দয়া বা সম্মান না থাকে, তবে সেই সৌন্দর্য অর্থহীন।
আরও পড়ুনঃ কয়েকদিনের মধ্যেই কলকাতার তাপমাত্রা ছুঁতে পারে ৩১ ডিগ্রি! শিবরাত্রিতে শীতের ইতি বঙ্গে
শারীরিক গঠন কি সম্পর্কের মাপকাঠি?
একেবারেই না। ভালোবাসার সম্পর্কে উচ্চতা বা বাহ্যিক সৌন্দর্য আসলে গৌণ বিষয়।
অনেক সম্পর্কেই বটম পার্টনার টপের চেয়ে লম্বা বা বেশি হ্যান্ডসাম হতে পারেন। অনেকের কাছে ব্যক্তিত্ব বা মেধা শারীরিক গঠনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়। সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় মনের মিলের কারণে, শরীরের মাপকাঠিতে নয়।
শারীরিক গঠন বনাম যৌন ভূমিকা –
একজন মানুষের যৌন পছন্দ (টপ/বটম) সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষার বিষয়। এর সাথে উচ্চতা, ওজন বা গায়ের রঙের কোনো সম্পর্ক নেই। একজন দেখতে খারাপ খাটো মানুষ টপ হতে পারেন। একজন অত্যন্ত সুদর্শন, লম্বা উচ্চতার মানুষও বটম হতে পারেন।
শরীরের হরমোন বা গঠন কখনোই নির্ধারণ করে দেয় না যে কে কোন ভূমিকায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে।
বাস্তবতা হলো: পৃথিবীতে হাজার হাজার সুখী সমপ্রেমী দম্পতি আছেন যেখানে বটম পার্টনার টপের চেয়ে অনেক বেশি লম্বা বা তথাকথিত ‘হ্যান্ডসাম’। সুতরাং ভালোবাসা টিকে থাকে একে অপরের প্রতি যত্ন, সম্মান এবং বোঝাপড়ার ওপর।
আরও পড়ুনঃ আবেগের এক মিলনস্থল; আজ মহাশিবরাত্রি
“সাইজ” কি ভালোবাসার মাপকাঠি?
যদি কোনো ব্যক্তি কেবল “ইঞ্চি” দেখে প্রেম করতে চায়, তবে বুঝতে হবে তিনি কোনো মানুষের সাথে নয়, বরং একটি “শরীরের অঙ্গের” সাথে প্রেম করছেন। একে ভালোবাসা বলে না, একে বলে অবজেক্টিফিকেশন (Objectification)। পর্নোগ্রাফিতে যা দেখানো হয় তা অনেকটা সিনেমার স্পেশাল ইফেক্টের মতো। সেখানে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং বিশেষ সিলেকশনের মাধ্যমে সবকিছু অনেক বড় বা দীর্ঘ দেখানো হয়। বাস্তব জীবনের পরিসংখ্যান বলছে, পুরুষের লিঙ্গের গড় আকার সাধারণত ৫ থেকে ৫.৫ ইঞ্চির আশেপাশে থাকে। ৮ ইঞ্চি বা তার বেশি হওয়া অত্যন্ত বিরল এবং এটি কোনো স্বাভাবিক মানদণ্ড নয়।
সহজ কথা: একজন টপ বা বটম খোঁজার আগে একজন “ভালো মানুষ” খুঁজুন। বাহ্যিক চাকচিক্যের মোহ ত্যাগ করুন। শরীর সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়, কিন্তু সুন্দর মন এবং সঠিক আচরণ সারাজীবন থেকে যায়।









