ঋতু পরিবর্তনের সময় কলকাতা শহরে ফের পেটের অসুখের দাপট। একের পর এক রোগী ভর্তি হচ্ছেন আচমকা ভাইরাল গ্যাস্ট্রো-এন্টারাইটিসের উপসর্গ নিয়ে। পেট খারাপ থেকে ঘনঘন বমি, তীব্র জলাভাব ও হালকা জ্বর, লক্ষণগুলি সাধারণ হলেও এই রোগের দাপট বেশ বেশি। সাধারণভাবে, একে আর ৫টা ডায়েরিয়ার প্রকোপ বলে মনে হলেও, চিকিৎসক মহলের একাংশের দাবি, এর নেপথ্যে রয়েছে রোটা ভাইরাস। ইতিমধ্যেই, এই ভাইরাসে বয়স্কদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। শহরের বেশ কিছু হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এমন উপসর্গ নিয়ে।
এই অসুখে যে লক্ষণগুলি দেখা যাচ্ছে, সেগুলি হল – পেট খারাপ থেকে ঘনঘন বমি, শরীরে তীব্র জলের অভাব, হালকা জ্বর থেকে পেট ব্যাথা ইত্যাদি। নানা উপসর্গ দেখে সাধারণভাবে, ‘ফুড পয়েজনিং’ মনে হলেও, চিকিৎসকরা বলছেন, এই উপসর্গগুলোকে অতটা হালকাভাবে নেওয়া যাবে না।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে খবর, কলকাতা জুড়ে বাড়ছে ভাইরাল গ্যাস্ট্রো-এন্টারাইটিসের প্রাদুর্ভাব, যার মূলে রয়েছে রোটা ভাইরাস। গত ২ সপ্তাহে, হঠাৎ করে ডায়েরিয়া, বমি ও জ্বরের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অনেকে। বয়স্কদের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরাও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে এই রোটা ভাইরাসের প্রকোপ।
আরও পড়ুনঃ অশান্তি শুরু দেশ জুড়ে; ভেনেজ়ুয়েলার পর মেক্সিকো, Mexico in Flames দেখে খুশিতে ডগমগ ট্রাম্প
সূত্রের খবর, গত এক সপ্তাহে, কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত ২৫জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। একই ছবি দেখা গেছে ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেল্থ-এও। সেখানে, ফেব্রুয়ারি মাসে রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩৫টি শিশু। এদের সকলেরই মোটামুটি উপসর্গ , পেট খারাপ, পেট ব্যথা, বারবার বমি ও হালকা জ্বর।
চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, সাধারণত খাবার বা জল থেকেই এর সংক্রমণ ছড়ায়। রোগ সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে, শরীরে তীব্র ডায়েরিয়া, বমি বমি ভাব থেকে, পেটে মুচড়ানো ব্যথা অনুভব করেন রোগী। ৩ থেকে ৮ দিন ধরে চলছে এই পরিস্থিতি। এরই সঙ্গে মাথা ব্যথা ও জ্বর ও শরীরে তীব্র জলের ঘাটতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। প্রাথমিকস্তরে এমন উপসর্গকে খাবারের বিষক্রিয়া বলে গুলিয়ে ফেললেও, পরবর্তীতে, পরীক্ষায় ভাইরাল গ্যাস্ট্রো-এন্টারাইটিসের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে একাধিক রোগীর শরীরে।
প্রাণঘাতী নয় রোটা ভাইরাস। রয়েছে প্রতিষেধকও। তবে দরকার সচেতনতাও। এই আবহে, সঠিক সময়ে উপসর্গ চিহ্ণিত করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।









