ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেইর মৃত্যুতে অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে পশ্চিম এশিয়া। এই আবহে ইরানের হয়ে যুদ্ধে নেমে পড়েছে হিজবুল্লাহ জঙ্গি গোষ্ঠীও। ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহ মিসাইল এবং রকেট হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলের দিকে। আর এরপরই কড়া জবাব দিয়েছে ইজরায়েল। লেবাননে হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে কার্যত তাণ্ডব চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। জানা গেছে, বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইজরায়েল।
আরও পড়ুনঃ চিনের আকাশ সীমা ব্যবহারের অনুমতি চাইল এয়ার ইন্ডিয়া
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল প্রতিনিয়ত ইরানকে আক্রমণ করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটিকে টার্গেট করছে ইরান। এদিকে হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ শুরু করেছে। হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইজরায়েলে আছড়ে পড়তে শুরু করে ২৯ ফেব্রুয়ারি। এর জেরে ইজরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজানো হয়। হিজবুল্লাহর এই হামলা ইজরায়েলের উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত জানা গেছে, হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রে খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি ইজরায়েলের।
হিজবুল্লাহ বলছে, তারা প্রকাশ্যে ইরানকে সমর্থন করবে এবং এই যুদ্ধেও অংশ নেবে। প্রসঙ্গত, ইজরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ইজরায়েল এই মৌলবাদী সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও ইজরায়েল প্রতিদিন হিজবুল্লাহকে টার্গেট করত। ইজরায়েলি হামলায় তাদের শীর্ষ কমান্ডাররা নিহত হয়েছেন। তবে এবার ইরানের হয়ে লড়াই করতে নেমে প্রতিশোধ নিতে চাইছে হিজবুল্লাহ।
আরও পড়ুনঃ ইরানের নিশানায় ট্রাম্পের বন্ধু দেশগুলি, আটকে বহু ভারতীয়
এদিকে বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ২৯ ফেব্রুয়ারি রাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সেই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সিসিএস বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বৈঠকে শীর্ষ আধিকারিকরা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারতের উপর এর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী মোদীকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র এবং শক্তিকান্ত দাস, চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান, ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন এবং বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। সূত্রের খবর, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে তা মোকাবিলা করার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে সেই বৈঠকে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কারণে বিমান পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। বহু ভারতীয় দুবাই এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন।
এদিকে ইরানিরা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর জেরে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে ভারতের তেল সরবরাহ শৃঙ্খলও ব্যাহত হতে পারে। তাই এই পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় নাগরিক বসবাস করছেন এবং ৪০ হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক ইজরায়েলে বসবাস করেন। পশ্চিম এশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই অঞ্চলে ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নাগরিকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হেল্পলাইনগুলি সক্রিয় করা হয়েছে।









