spot_img
Tuesday, 10 March, 2026
10 March
spot_img
HomeকলকাতাSupreme Court: ‘সাহস দেখবেন না!’ সুপ্রিম ধাক্কা তৃণমূলের

Supreme Court: ‘সাহস দেখবেন না!’ সুপ্রিম ধাক্কা তৃণমূলের

মামলার দুই পক্ষের আচরণ নিয়েও আদালতের কিছু সন্দেহ রয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে চলছে আইনি লড়াই। এবার এই আইনি লড়াইয়ে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শুনানির সময় আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আদালত নিযুক্ত বিচারিক কর্মকর্তাদের কাজ বা সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনও ধরনের প্রশ্ন তোলা বা সন্দেহ প্রকাশ বরদাস্ত করা হবে না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সতর্কবার্তা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত আবেদনকারীদের।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ক্ষুব্ধ সুরে বলেন, “বিচারিক কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহসও দেখাবেন না। তারা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত সময় কাজ করে যাচ্ছেন। আরও কী ত্যাগ চান আপনারা?” আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে বিচারিক কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মান ও আস্থা বজায় রাখার বিষয়টিকে আদালত অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ আগুন মধ্যবিত্তদের হেঁসেলে; তুঙ্গে ইন্ডাকশনের চাহিদা

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ার সময় যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের আপিল শুনানির জন্য বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিচারিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের বিচারিক কর্মকর্তারাও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। তারা বাদ পড়া ভোটারদের আপিল শুনে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

তবে সম্প্রতি একটি নতুন আবেদন আদালতের নজরে আসে, যেখানে এই বিচারিক কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এই বিষয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আদালত নিযুক্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তকে এভাবে চ্যালেঞ্জ করা গ্রহণযোগ্য নয়। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, মামলার দুই পক্ষের আচরণ নিয়েও আদালতের কিছু সন্দেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষেরই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছি।” এরপর আদালত জানতে চায়, ঠিক কারা এই নতুন আবেদন দাখিল করেছে যেখানে বিচারিক কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই সময় আবেদনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মেনাকা গুরুস্বামী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তারা আদালতকে জানান, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন কোনও নতুন আবেদন সম্পর্কে তাদের কোনও ধারণা নেই।

এই বিতর্কের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত বলেছে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল শোনার জন্য একটি স্বাধীন আপিল ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। সেই অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং বিচারপতিদের নিয়ে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে।

আরও পড়ুনঃ দেশজুড়ে কার্যকর হল ‘জরুরি’ আইন; বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

আদালত নির্দেশ দিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং দুই বা তিনজন প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতির নাম সুপারিশ করতে পারেন। তারা অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে কাজ করবেন। নির্বাচন কমিশন তাদের নাম সরকারি ভাবে ঘোষণা করবে এবং তারা ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত আপিল শুনবেন। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের দেওয়া আদেশ কোনও প্রশাসনিক বা নির্বাহী সংস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না। আপিল করতে হলে এই বিশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছেই যেতে হবে।

এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই বিচারিক কর্মকর্তাদের কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা এবং পরিকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে। কারণ বিপুল সংখ্যক অভিযোগ ও আপিলের শুনানি করতে গিয়ে কর্মকর্তাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ছে।

জানা গেছে, এই ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি আপত্তি জমা পড়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মামলার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে বিচারিক কর্মকর্তাদের। পরিশেষে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, যেসব আপত্তির নিষ্পত্তি ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে তাদের সম্পূরক তালিকা প্রকাশের বিষয়ে যদি কোনও বিতর্ক থাকে, তাহলে সেই বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করতে পারবে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন