Thursday, 26 March, 2026
26 March
HomeকলকাতাRam Navami 2026: কলকাতায় সরস্বতী পূজা ছেড়ে রাম পূজা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে; ক্যাম্পাসে...

Ram Navami 2026: কলকাতায় সরস্বতী পূজা ছেড়ে রাম পূজা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে; ক্যাম্পাসে রামনবমী! যাদবপুর-কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ABVP-র পুজো ঘিরে তুঙ্গে তরজা

অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-কে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ছুটির দিনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী উদযাপন। আর সেই নিয়ে উত্তেজনা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। ABVP এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠনের উদ্যোগে রামনবমী পালিত হচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর তার মধ্যেই পাল্টা স্লোগান তোলেন প্রতিবাদী ছাত্ররা। সাম্প্রদায়িক উস্কানি জোগানোর অভিযোগ তুলছেন তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে রামনবমী। রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা যেমন রাস্তায় নেমেছেন, শিক্ষাঙ্গনেও পুজোর আয়োজন হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে রামনবমী পালিত হচ্ছে। সেখানে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তুলতে শোনা যায় পড়ুয়াদের। বলতে শোনা যায়, ‘সিইউ-তে একটাই নাম, জয় শ্রীরাম, জয় শ্রীরাম’। যাদবপুরেও রামনবমী পালন করছে ABVP এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্র সংগঠন।

আরও পড়ুনঃ যুদ্ধ-আবহের প্রস্তুতি; আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’জায়গায় রামনবমীর পুজো হচ্ছে। একটি করছে ABVP, অন্যটি করছে জাতীয়তাবাদী সংগঠন। ক্যাম্পাসে এই পুজোর বিরোধিতা করতে এগিয়ে আসেন একদল পড়ুয়া। তাঁরা স্লোগান তোলেন, ‘RSS-ABVP মুর্দাবাদ’, ‘ABVP দূর হটো’, ‘NSF মুর্দাবাদ’, ‘BJP-RSS মুর্দাবাদ’, ‘ক্ষুদিরামের এই মাটিতে নাথুরামদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’,  ‘প্রীতিলতার এই মাটিতে ধর্ষকদের ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই’।

ক্যাম্পে রামনবমী পালনের বিরোধিতা করে এক প্রতিবাদী ছাত্র বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনও ধর্মীয় উৎসবই হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমাদের দেশের যে ধর্মীবিশ্বাস রয়েছে, সেই জায়গা থেকে বহু উৎসবই হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ও এর ব্যতিক্রম নয়। এখানে সরস্বতী পুজো, দুর্গাপুজো, বিশ্বকর্মা পুজো সব হয়। ছাত্রছাত্রীরা অংশ নেয়, কোনও আপত্তি থাকে না। কিন্তু RSS-এর দৌলতে গত ১০ বছরে রামনবমী এমন একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে, সেখানে রামনবমীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক হিংসা, দাঙ্গা, মসজিদ-গির্জা ভাঙা, দলিত, আদিবাসী, মুসলিম, খ্রিস্টানদের হত্যা করার ডাক দেওয়া চলে আসছে। যে উৎসবকে সাম্প্রদায়িক হিংসায় ব্যবহার করা হচ্ছে, তার বিরোধিতা করি আমরা।”

আরও পড়ুনঃ এক মুঠো অন্নেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ; নিস্তব্ধ কৈলাসের বুকে প্রতিধ্বনি

অন্য দিকে, পুজোর আয়োজন করা এক পড়ুয়াদের দাবি, “যারা নকশাল, যারা দান্তেওয়াড়ায় ৭৬ জন জওয়ানকে শহিদ করে, তাদের থেকে নৈতিকতার শিক্ষা নেব? এরা ছাত্র? এরা সন্ত্রাসবাদী, এরা নকশালবাদী, ক্যাম্পাসটাকে ধ্বংস করতে, ভারত রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে ফেসবুকে হ্যাজ নামায়, ক্যাম্পাসে প্রোগ্রাম করে, গ্রাফিতি লেখে। এদের ক্যাম্পাস থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব আমরা পালন করব।”

এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিস্থিতি এতটাই তেতে ওঠে যে উপাচার্যকে ছুটে আসতে হয়। তিনি জানান, পুজোর জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। ক্যাম্পাসের শান্তি রক্ষার আবেদন জানান উপাচার্য। যদিও দক্ষিণপন্থী পড়ুয়াদের দাবি, “রামেন নামে ভয় পেয়েছে। ভূত ভয় পেয়ে ছটফট করছে। কট্টর বামপন্থীরা রামনাম শুনে ভয় পায়। তাই লাফালাফি করছে। রামের পুজো আটকানো যাবে না। রাম ভারতের, বহিরাগত নয়। ইফতার পার্টি হচ্ছে, বাইরে থেকে লোক আসছে, তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। রামনবমী ঘিরে লাফালাফি।”

কী বলছে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠন?

এবিভিপি-র যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতি নিখিল দাসের দাবি, “আমরা যখন পুজো করছিলাম, তখন অতিবাম কিছু ছাত্র এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। তবে উপাচার্য নিজে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। আমাদের পুজো নির্বিঘ্নেই হচ্ছে।” তাঁদের দাবি, উপাচার্য মৌখিক অনুমতি দিলেও কোনও লিখিত অনুমতি দেননি।

পালটা বাম মনোভাবাপন্ন সংগঠন আরএসএফ (RSF)-এর সম্পাদক ইন্দ্রানুজ রায় বলেন, “ক্যাম্পাসে যে কোনও পুজোই হতে পারে, সরস্বতী পুজোও হয়। কিন্তু গত দশ বছরে এই রাম পুজোকে ঘিরে যে ভাবে আরএসএস সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি ও হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে, আমাদের আপত্তি ঠিক সেখানেই। কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছেন, মৌখিক বা লিখিত কোনও অনুমতিই ছিল না।”

যাদবপুর কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও অতীতের নজির

যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য স্পষ্ট দাবি করেছেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে পুজোর অনুমতি দেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সেলিমবক্স মণ্ডল জানান, “বুধবার ছাত্ররা আমাদের কাছে এসেছিল। আমরা লিখিত ভাবে কোনও অনুমতি দিইনি, তবে বাধাও দিইনি।”
প্রসঙ্গত, গত কয়েক বছরের লাগাতার চেষ্টার পর গত বছর (২০২৫ সালেও) কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই যাদবপুর ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে রামনবমী পালন করেছিল এবিভিপি।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুমতি বাতিল, পুজো গেটের বাইরে

অন্যদিকে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-কে পুজোর অনুমতি দেওয়া হয়নি। উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ স্পষ্ট জানান, “ক্যাম্পাসে একটি দল অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু তা দেওয়া যায়নি। কারণ এখানে শুধুই সরস্বতী পুজোর অনুমতি রয়েছে।” অনুমতি না মেলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরেই রামের পুজো শুরু করেছে এবিভিপি। উপাচার্যের কথায়, মূল ফটকের বাইরে কিছু হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কিছু করার নেই

বৃহস্পতিবার রামনবমীর সরকারি ছুটি থাকায় বন্ধ ছিল বিশ্ববিদ্যালয়, আর তার মাঝেই এই পুজো ঘিরে দিনভর চলল বিস্তর রাজনৈতিক তরজা।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন