Friday, 3 April, 2026
3 April
HomeকলকাতাHaunted Place: অশরীরীর হাতছানি! বাংলার এসব স্থানে গেলে গা ছমছম করবেই; ভোটের...

Haunted Place: অশরীরীর হাতছানি! বাংলার এসব স্থানে গেলে গা ছমছম করবেই; ভোটের পর এই সব জায়গাগুলি থেকে ঘুরে আসুন

ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করুন। রোমাঞ্চের টানে কলকাতা অথবা উত্তরবঙ্গের এই সব জায়গাগুলি থেকে ঘুরে আসুন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

গা ছমছম কী হয়, কী হয়…! রোমাঞ্চের টানে অনেকেই ভালোবাসেন হন্টেড ট্যুর। বাংলার বুকে এমন নানা জায়গাই রয়েছে। কার্শিয়াং, কালিম্পং থেকে কলকাতা। লম্বা তালিকায় রয়েছে বহু জায়গা। যেখানে গেলে আপনিও তেনাদের দর্শন না-ও পেতে পারেন। তবে অনেকেই নাকি তেনাদের অনুভব করেন। অবশ্য তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত। কেউ বলেন, সত্যি কিছু আছে। আবার কারও মতে, এসব সবই কাল্পনিক ভাবনাচিন্তা।

কেউ বলেন, এই জায়গাগুলিতে নাকি দেখা মেলে অশরীরীর। কারও দাবি শোনা যায় মহিলার আর্তনাদ। কেউ শুনতে পান নূপুরের শব্দ। ভৌতিক জায়গাগুলি নিয়ে এক একজন এক একরকম কথা বলেন। তা সত্যি নাকি মিথ্যা – তার অবশ্য কোনও প্রমাণ নেই।  কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহু দূর। এক্ষেত্রেও ঠিক তাই। তবে আজও ওই হন্টেড জায়গাগুলি নিয়ে নানা আলোচনা যেন শিরদাঁড়ায় শিহরণ জাগায়।

এই তালিকায় প্রথমেই আসে কার্শিয়াংয়ের ডাউ হিলের কথা। ঘন জঙ্গলে ঘেরা এখানেই রয়েছে ভিক্টোরিয়া বয়েজ স্কুল। স্থানীয়দের দাবি, নাকি দেখা মেলে অশরীরীর। এলাকাবাসীরা বলেন, এখানে নাকি মুন্ডহীন ভূতেদের আনাগোনা। কেউ কেউ আবার হাঁটাচলার শব্দ শুনতে পান। কারও দাবি, সেখানে গেলে শোনা যায় অট্টহাসির শব্দ। কে যে হাসছে, তা জানা যায়নি। তাই তো এই বাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করে রোমহর্ষক কাহিনি।

আরও পড়ুনঃ ২০০ টাকারও কমে ৩৫ দিনের প্ল্যান! BSNL-এর চাপে Jio-Airtel

কালিম্পংয়ের মর্গান হাউস পর্যটকদের থাকার জায়গা। রোমাঞ্চের টানে বহু পর্যটকই দৌড়ে যান সেখানে। কথিত আছে, লেডি মর্গানের অতৃপ্ত আত্মা নাকি সেখানে ঘোরাফেরা করে। তিনি নাকি হাই হিলের জুতো পরতেন। তাই তাঁর পায়ের শব্দও পাওয়া যায়। কোনও কোনও পর্যটকদের দাবি, ওই বাড়িতে থাকা অনুভূতি নাকি শিহরণ জাগায়। আবার কারও কারও দাবি, বিন্দুমাত্রও শিহরিত হননি তাঁরা। সবই যেন প্রচার কৌশল। রোমাঞ্চের ইশারা পর্যটকদের আকর্ষণ করার কৌশল।

নোনা জল, ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবন। যেখানে মাঝেমধ্যেই দেখা মেলে বাঘ, কুমিরের মতো বন্যপ্রাণের। যা রীতিমতো মৎস্যজীবীদের আতঙ্কের কারণ। তবে পেশার টানে ডিঙি নিয়ে তাঁরা পাড়ি জমান মাছ ধরতে। মৎস্যজীবীদের দাবি, সেখানে দেখা মেলে এক আলোর। অন্ধকারের বুক চেরা আলোর ঝলক যেন চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার মতো। অবশ্য কাছে গেলেই সব ফাঁকা। অনেকেই বলেন, এই ঘটনার ফলে নাকি বহু মৎস্যজীবী প্রাণও হারান।

কলকাতার পুতুল বাড়ি নিয়ে এমনই নানা কাহিনি রয়েছে। শোভাবাজারের ২২ হরচন্দ্র মল্লিক লেনে অবস্থিত এই পুতুল বাড়ির ইট, কাঠ, পাথরে নাকি নানা যন্ত্রণার কাহিনি লুকিয়ে। জমিদাররা এই বাড়িতে নাকি মহিলাদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালাত। ধর্ষণ করে দেহ লোপাট করে দেওয়া হত বলেই শোনা যায়। নাকি তাঁদেরই আর্তনাদ পুতুল বাড়ির বাতাসে আজও মিশে আছে। রোমাঞ্চের টানে তাই আপনিও ঢুঁ মারতেই পারেন পুতুল বাড়িতে।

কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি নিয়েও প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প কাহিনি। সেখানকার কর্মী এবং লাইব্রেরিতে আসা অনেকেই দাবি করেন, তাঁরা নাকি অশরীরীর আনাগোনা টের পান। কেউ কেউ কারও পায়ের শব্দ শুনতে পান। আবার কারও মনে হয়, কেউ নাকি তাঁকে দেখছেন। কিন্তু কাছে গেলে কেউ নেই। অনেক সময় বিনা কারণে বই পড়ে যায়। অনেকেই দাবি করেন, লেডি মেটকাফ নাকি এসব কাণ্ডকারখানার নেপথ্যে।

পার্ক স্ট্রিট সিমেট্রিতে আবার দিনেদুপুরেও লোকে যেতে ভয় পান। সেখানে ভিড় জমানো প্রায় সকলেই বলেন, কেমন যেন অশরীরীর আনাগোনার টের পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর সিমেট্রির চেহারা হয় আরও ভয়ংকর। সূর্যাস্তের পর সেখানে অনেককেই নাকি দেখা যায়। কাছে গেলেই সব ফাঁকা। কেউ কোত্থাও নেই!

কলকাতার লালদিঘির উত্তর দিকে অবস্থিত রাইটার্স বিল্ডিংও রয়েছে এই তালিকায়। ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর, বিনয়-বাদল-দীনেশ ব্রিটিশ আধিকারিক কর্নেল সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করে। যা ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলার প্রধান প্রশাসনিক দপ্তর হিসাবে পরিচিত রাইটার্স বিল্ডিং। টমাস লিওন এই বাড়িটির নকশা তৈরি করেন। ভবনটির চূড়ায় গ্রীক ও রোমান দেবীর ভাস্কর্য। এই রাইটার্স বিল্ডিংও নাকি নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী।

অফিস টাইমে কিছুটা ভিড় হয়। দিনের বাকি সময় প্রায় ফাঁকাই থাকে রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন। হিসাব বলছে, সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা নাকি ঘটে এই স্টেশনে। অনেকেই বলেন, মেট্রো স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকলে নাকি একরাশ বিষন্নতা ঘিরে ধরে। কারও ফিসফিসানির শব্দ শোনা যায়। যদিও তাকে চোখে দেখা যায় না। সে নাকি টানেলে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য জোরাজুরিও করে। যার ফলে মানসিক টানাপোড়েন তৈরি হয়।

রাতের হাওড়া ব্রিজে ব্যস্ততা অনেকটাই কম। সেখানে নাকি নানা অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হন পথচলতিরা। বহু গাড়িচালকের দাবি, সেখানে দেখা যায় সাদা শাড়ি পরা কোনও মহিলার। কেউ আবার কোনও অশরীরীর ছায়া দেখতে পান। হাতও দেখতে পাওয়া যায়। তার ফলে যেকোনও মুহূর্তে অঘটনও ঘটতে পারে। তাই সাবধানে যাতায়াত করুন। নইলে ঘোর অঘটনের আশঙ্কা থেকেই যায়।

আপনি তেমন সাহসী না হলে রাতে নিমতলা ঘাটে ভুলেও যাবেন না। শ্মশানঘাটে নাকি নানা শব্দ শোনা যায়। কখনও শোনা যায় কেউ হাসছে। আবার কখনও শোনা যায় কান্নাকাটির আওয়াজ। যার ফলে কেউ কেউ অসুস্থও হয়ে পড়েন। যদিও তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুনঃ সোশাল মিডিয়ায় ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও ফাঁস? মাথা ঠান্ডা রেখে প্রথমেই করুন এই কাজ

টাইম মেশিনে চড়ে ফিরে যাওয়া যাক ১৯৩০ সালে। একসময় রয়্যাল ক্যালকাটা টার্ফ ক্লাবে জর্জ উইলিয়াম ঘোড় দৌড়ে অংশ নিতেন। তাঁরই ঘোড়া ছিল প্রাইড। ওই সাদা ঘোড়াটি একবার রেসে হেরে যায়। পরদিন তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। শোনা যায়, জর্জ উইলিয়ামই তাকে হত্যা করেছে। আর তারপর থেকেই সাদা ঘোড়াটি নাকি মাঝেমধ্যেই দেখা যেত। তা দেখতে আঁতকে উঠেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

ওয়ারেন হেস্টিংসের বাসভবন হেস্টিংস হাউস ঘিরে নানা কাহিনি প্রচলিত। যা শিহরণ জাগাতে বাধ্য। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন এই বাড়িতে মাঝেমধ্যেই নাকি দেখা যায় কিশোর বালককে। সে নাকি নিজের খেয়ালে হেস্টিংস হাউসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আবার কখনও সাদা ঘোড়ার ক্ষুরের শব্দ পাওয়া যায়। কখনও কখনও মোমবাতি হাতে মহিলাকে ঘোরাফেরা করতেও নাকি দেখা যায়। যদিও তা সত্যি নাকি মিথ্যে – তা নিয়ে রয়েছে নানা মতবিরোধ।

তাই আর দেরি কীসের? ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করুন। রোমাঞ্চের টানে কলকাতা অথবা উত্তরবঙ্গের এই সব জায়গাগুলি থেকে ঘুরে আসুন। কে বলতে পারে, হয়তো দেখা পেলেন তেনাদের। মনের জোর না থাকলে অবশ্য এই জায়গাগুলিতে যাওয়ার ভাবনা ভুলেও ভাববেন না। তাতে সমস্যায় পড়তে পারেন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন