ভোটের আগে বড় ধাক্কা হুমায়ুন কবীরের। বিতর্কিত ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই হাত ছাড়ল জোটসঙ্গী। আসাউদ্দিন ওয়াইসির পার্টি এআইএমআইএম হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট ভাঙার কথা ঘোষণা করল। আজ শুক্রবার মিমের পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে এই পোস্ট করা হয়। সেখানে হুমায়ুনের পার্টির সঙ্গে জোট প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়। আসন্ন নির্বাচনে একলা লড়ার ডাক দেওয়া হয়েছে মিমের তরফে।
আজ ইসলামপুরে হুমায়ুন কবীর ও আসাউদ্দিন ওয়াইসির যৌথভাবে জনসভার কথা ছিল। ঠিক তার আগে জোট ভাঙল মিম। এর নেপথ্যে ভাইরাল ভিডিয়োটিই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গতকালই তৃণমূল কংগ্রেস হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনে বিস্ফোরক অভিযোগ আনে। ওই ভিডিয়োতে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। সেখানেই বিস্ফোরক নানা কথা বলতে শোনা গিয়েছে হুমায়ুনকে। যদিও এই ভাইরাল ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি বঙ্গবার্তা।
১০০০ কোটি টাকার কোনও ডিল নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় হুমায়ুন কবীরকে। তিনি বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের বোকা বানানো খুব সহজ’। নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের মতোই বিজেপির বিরোধিতা করলেও, পরে সমর্থন জানাবেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই ভিডিয়ো প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, “ধর্ম বিক্রি করে পাপ করেছেন হুমায়ুন। একে কী ভাষায় বলব, বেইমান বললে কম বলা হবে। ষড়যন্ত্র করছে। ওয়েইসি, আপনারাও এই জায়গায় নামলেন।”
আরও পড়ুনঃ আরজি কর মামলায় বড় নির্দেশ বিচারপতি মান্থার
ভাইরাল ভিডিয়ো নিয়ে যখন তুমুল শোরগোল, সেই সময় এআইএমআইএমের তরফে এক্স হ্য়ান্ডেলে পোস্ট করে বলা হয়, “হুমায়ুন কবীরের সত্য ফাঁস প্রমাণ করে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুরা কতটা আবেগপ্রবণ। এআইএমআইএম এমন কিছুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না যেখানে মুসলিমদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আজ থেকে হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে সমস্ত জোট ভাঙল।”
মিমের তরফে আরও লেখা হয়, ” বাংলার মুসলমানরা অত্যন্ত দরিদ্র, অবহেলিত এবং নিপীড়িত। কয়েক দশক ধরে ধর্মনিরপেক্ষ শাসন থাকা সত্ত্বেও তাদের উন্নয়নের জন্য কিছুই করা হয়নি। যেকোনও রাজ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে এআইএমআইএম-এর নীতি হল, সংখ্যালঘুরা যেন একটি স্বাধীন রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর পায়। আজ থেকে এআইএমআইএম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একা লড়বে। কোনও দলের সঙ্গে আর জোট বাঁধবে না।”



