পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে একটি পঞ্চায়েত অফিসকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি পঞ্চায়েত অফিস কার্যত ব্যক্তিগত অতিথিশালায় পরিণত হয়েছিল তৃণমূল জমানায়। অফিসের ভিতরে খাট, বিছানা, আলমারি-সহ বিভিন্ন গৃহস্থালির সামগ্রী থাকার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। পঞ্চায়েত অফিস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কন্ডোম।
রিপোর্ট অনুযায়ী, পটাশপুর ২ ব্লকের সাউথখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের তিনতলার একটি ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে খাট, বিছানা, এসি, শাড়ি, কন্ডোম, জুয়ার বোর্ড এবং শয়ে শয়ে রেশন কার্ড ও মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান বিজনবন্ধু বাগের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিজেপি। বিজনবন্ধু বাগকে ‘পটাশপুরের শাহজাহান’ বলে তোপ দেগেছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুনঃ ফলতায় ভোটগণনা শুরু, গণনা কেন্দ্রে তৃণমূলের এজেন্ট সংখ্যা ‘শূন্য’
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাধারণ মানুষের কাজের জন্য তৈরি পঞ্চায়েত অফিসে নিয়মিতভাবে ব্যক্তিগত আড্ডা ও রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করা হত। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, অফিসের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল সেটি কোনও অতিথিশালা বা ব্যক্তিগত শয়নকক্ষ। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিজেপি এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের দাবি তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ আসানসোলে বুলডোজারে গুঁড়িয়ে গেল ইস্পাত কারখানার জমি দখলকারী তৃণমূল কার্যালয়
তৃণমূলের তরফে যদিও অভিযোগ খারিজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, পঞ্চায়েত অফিসে কিছু সামগ্রী থাকলেও তা সরকারি কাজের সুবিধার জন্য রাখা হয়েছিল। বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখাচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিজেপি। তাদের বক্তব্য, সরকারি অফিসে এই ধরনের ব্যবস্থা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পটাশপুর এলাকায় এর আগেও ত্রাণ দুর্নীতি ও প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় স্তরে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে একাধিকবার রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। সেই আবহেই নতুন এই বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে আরও অস্বস্তি বাড়িয়েছে।



