আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ পুরসভা শ্রীরামপুর ও চাঁপদানীর পুরপ্রধান ও উপ-পুরপ্রধানরা দলে দলে ইস্তফা দিলেন। এর ফলে ওই পুরবোর্ডগুলি কার্যত ভেঙে গেল। আপদকালীন পরিস্থিতিতে পুরসভাগুলির প্রশাসনিক কাজ সামলানোর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এক্সিকিউটিভ অফিসারদের।
আরও পড়ুনঃ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ বিজেপিতে!
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার চাঁপদানী পুরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র সহ তৃণমূলের ১৭ জন কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে, শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরীধারী শাহ এবং ভাইস চেয়ারম্যান উত্তম নাগও এদিন স্বেচ্ছায় নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই, অর্থাৎ বুধবার ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা শবনম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা এবং একঝাঁক তৃণমূল কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুগলি জেলায় তৃণমূলের পুরবোর্ডগুলিতে ধস নামার প্রক্রিয়া নতুন নয়। এর আগে চন্দননগর পুরনিগম, ভদ্রেশ্বর, তারকেশ্বর ও বাঁশবেড়িয়া পুরবোর্ড ভেঙে গিয়েছে। চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানও বেশ কিছুদিন আগেই পদত্যাগ করেছেন। নতুন করে শ্রীরামপুর ও চাঁপদানী হাতছাড়া হওয়ায় জেলা জুড়ে শাসক শিবিরের সংগঠনে বড়সড় ধাক্কা লাগল বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ চোখের নিমেষে তলিয়ে গেল আস্ত ব্রিজ! ভয়ঙ্কর রূপ নিল সুবর্ণরেখা
ইস্তফা দেওয়ার পর সমাজ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেন চাঁপদানীর সদ্য প্রাক্তন পুরপ্রধান সুরেশ মিশ্র। তিনি বলেন, “চাঁপদানীবাসীর কাছে আমি কৃতজ্ঞ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁরা আমাকে নির্বাচিত করে শহরের কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি ও অনেক ভালোবাসা পেয়েছি। আজ স্বেচ্ছায় পুরপ্রধানের পদ ছেড়ে দিলেও শহরবাসীর সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকবে।”
একই সুর শোনা গেছে শ্রীরামপুরের বিদায়ী পুরপ্রধান গিরীধারী শাহের গলাতেও। তিনি বলেন, “পুরপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শহরের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। শহরের সমস্ত নাগরিক আমাকে দারুণভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমি সাধ্যমতো নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি কোনও অভিযোগ নেই, সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় আমি এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিলাম।”
রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে একের পর এক পুরবোর্ড এভাবে ভেঙে পড়ায় জেলার পুরপরিষেবা এবং প্রশাসনিক কাজকর্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


