Saturday, 30 May, 2026
30 May
HomeদেশPlastic Notes: জল্পনা শুরু; ভারতে কাগজের নোটের বদলে আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট

Plastic Notes: জল্পনা শুরু; ভারতে কাগজের নোটের বদলে আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, তাহলে কি পুরোনো কাগজের নোট বন্ধ হয়ে যাবে?

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

ভারতে কি এবার কাগজের নোটের বদলে আসতে চলেছে প্লাস্টিকের নোট?

সম্প্রতি এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন পরিকল্পনাকে ঘিরে। একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া কাগজের নোটের সমস্যা মোকাবিলায় আবারও পলিমার বা প্লাস্টিক নোট চালুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে আরবিআই। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট। কারণ বর্তমানে দেশের বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া নোটগুলির মধ্যেই রয়েছে এই দুটি।

২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবর্ষে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন পুরোনো ও ক্ষতিগ্রস্ত নোট বাজার থেকে সরাতে হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১২.৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০০ টাকার নোট। নগদ লেনদেন বেশি হওয়ায় এই নোটগুলি খুব দ্রুত ময়লা, ছেঁড়া এবং অচল অবস্থায় পৌঁছে যাচ্ছে। ফলে নতুন নোট ছাপানোর খরচও ক্রমশ বাড়ছে। সেই কারণেই দীর্ঘস্থায়ী বিকল্প হিসেবে পলিমার নোটকে আবার সামনে আনছে আরবিআই।

আরও পড়ুনঃ বাড়ছে উদ্বেগ! ৩০ দিনের এলপিজি মজুত রাখার নির্দেশ

পলিমার নোট আসলে বিশেষ ধরণের প্লাস্টিক পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়। সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় এই নোট অনেক বেশি টেকসই। সহজে ছিঁড়ে যায় না, জলে ভিজলেও ক্ষতি কম হয় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, একটি পলিমার নোটের আয়ু সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় প্রায় আড়াই থেকে চার গুণ বেশি হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে নোট ছাপানোর খরচও কমে যায়। এছাড়া নোটে স্বচ্ছ অংশ, উন্নত নিরাপত্তা চিহ্ন এবং বিশেষ নকশা ব্যবহার করা যায় বলে জাল নোট তৈরিও তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ ইতিমধ্যেই পলিমার নোট ব্যবহার করছে। অস্ট্রেলিয়া এই প্রযুক্তির অন্যতম পথপ্রদর্শক। এছাড়া কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং ব্রিটেনেও বহু মূল্যমানের নোট এখন পলিমার পদার্থে তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের দাবি, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ধরণের নোট তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

ভারতে অবশ্য এই ভাবনা একেবারে নতুন নয়। ২০১২ সালে আরবিআই পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকার পলিমার নোট চালুর পরিকল্পনা করেছিল। কোচি, মাইসুরু, জয়পুর, শিমলা এবং ভুবনেশ্বরের মতো কয়েকটি শহরে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু করার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং উৎপাদন সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পটি এগোয়নি। এখন সূত্রের দাবি, আগের অনেক সমস্যারই সমাধান হয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি আবার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

নতুন রিপোর্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। শুধু নোট নয়, এটিএম ব্যবস্থাকেও নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হতে পারে। কারণ পলিমার নোটের গঠন ও নমনীয়তা কাগজের নোটের থেকে আলাদা। ফলে এটিএমের নোট গণনা, শনাক্তকরণ এবং বিতরণ ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাঙ্ক এবং এটিএম নির্মাতা সংস্থাগুলিকেও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের আম রপ্তানিতে বড় ধাক্কা দিল জাপান

তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, তাহলে কি পুরোনো কাগজের নোট বন্ধ হয়ে যাবে? বর্তমানে সেই ধরনের কোনও ঘোষণা করেনি আরবিআই বা কেন্দ্রীয় সরকার। এখনও পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে, তাতে এটি নোটবন্দির মতো কোনও পরিস্থিতি নয়। পুরোনো নোট হঠাৎ করে অচল করে দেওয়ার পরিকল্পনার কোনও ইঙ্গিত নেই। বরং ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত কাগজের নোট বাজার থেকে তুলে নিয়ে তার জায়গায় নতুন পলিমার নোট আনা হতে পারে। অর্থাৎ কিছু সময় কাগজের নোট এবং পলিমার নোট একসঙ্গেই বাজারে চলতে পারে।

২০২৪ সালেও কেন্দ্র সরকার সংসদে জানিয়েছিল, দেশে প্লাস্টিক নোট চালুর বিষয়ে তখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের স্তরেই রয়েছে। তবুও দেশের নগদ অর্থ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল বাড়তে শুরু করেছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন