ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র কুডনকুলমের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৯,০০০টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ফাইল ফাঁস করল ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে সাইবার হানার সাহায্যে ওই তথ্য ফাঁস করা হয়েছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ অনলাইন ডেটিংয়ের জগতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত!
- ফাঁস হওয়া নথিপত্রে রয়েছে:
- কুডনকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্লান্ট ব্লুপ্রিন্ট,
- যন্ত্রাংশের নকশা,
- সরবরাহকারীদের বিবরণ,
- নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য।
- রিলায়্যান্স এডিএজি জানিয়েছে, তাদের ডেটার আংশিক লঙ্ঘন ঘটেছে যা তৃতীয় পক্ষের সার্ভার ‘ইয়োট্টা’-তে ছিল এবং সরকারের কাছে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।
- আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর কর্তা নিকোলাস রথ মন্তব্য করেছেন, এই ঘটনা কুডনকুলমের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি।
- তিনি আরও বলেন, ভারতে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এই সঙ্কট মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুত নয়।
- ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটে রিলায়্যান্স সংক্রান্ত মোট ৮৮৫,০০০ ফাইল রয়েছে, যার মধ্যে ১৯,০০০টি অত্যন্ত সংবেদনশীল।
- ২০১৮ সালে কুডনকুলমের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট নির্মাণের জন্য কাজ পেয়েছিল রিলায়্যান্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।
সারসংক্ষেপ:
এই সাইবার হামলা কুডনকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তায় সম্ভাব্য বড় প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
র্যানসমওয়্যার (ক্ষতিকারক সফট্ওয়্যার বা ম্যালওয়্যার, যা কোনও কম্পিউটার বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেয় এবং ব্যবহারকারীর সব গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ‘এনক্রিপ্ট’ বা লক করে ফেলে)-এর মাধ্যমে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অনিল অম্বানীর রিলায়্যান্স এডিএজি-র একটি সার্ভার হ্যাক করে এই তথ্য মিলেছে বলে তথ্য ফাঁসকারী ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর দাবি। ওই র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠীর তরফে ফাঁস করা নথিপত্রের মধ্যে পরমাণুকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশের প্ল্যান্ট ব্লুপ্রিন্ট, যন্ত্রাংশের নকশা, সরবরাহকারীদের বিবরণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘তুমি চোখে দেখো না, কানে দেখো’, মমতাকে ভর্ৎসনা কেষ্টর
অনিলের কোম্পানির তরফে সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানানো হয়েছে যে, ভারতীয় ডেটা সেন্টারের তরফে তৃতীয় পক্ষকে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘ইয়োট্টা’ পরিচালিত একটি সার্ভারে তাদের ডেটার ‘আংশিক লঙ্ঘন’ ঘটেছে এবং এই ঘটনার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ঠিক কোন কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি রিলায়্যান্স এডিএজি। এই ঘটনা কুডনকুলম বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-এর কর্তা নিকোলাস রথ। এই সংস্থাটি ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের সরকারকে পরমাণু নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শ দেয় এবং এ সংক্রান্ত পদক্ষেপ মূল্যায়ন করে।
নিকোলাসের মতে এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, ভারতে সাইবার হামলার ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে, যেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সঙ্কট মোকাবিলার জন্য সঠিক ভাবে প্রস্তুত নয়। ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’-এর ওয়েবসাইটে রিলায়্যান্স সংক্রান্ত ৮ লক্ষ ৮৫ হাজার ফাইল রয়েছে। তার মধ্যে ১৯ হাজারটি ‘সংবেদনশীল’। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কুডনকুলম পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ এবং ৪ নম্বর ইউনিটের পরিকাঠামো নকশা ও নির্মাণের জন্য বরাত পেয়েছিল অনিলের সংস্থা রিলায়্যান্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। ডাটাসেন্টার পরিষেবা প্রদানকারী থার্ড-পার্টি সংস্থা ‘ইয়োট্টা’র একটি সার্ভার থেকে এই ডেটা চুরি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।


