টাওয়ার ছাড়াই কথা বলার নতুন প্রযুক্তি
আপনি নিশ্চয়ই কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন—জরুরি ফোন করতে হবে, কিন্তু মোবাইল টাওয়ার নেই। কিংবা ঘুরতে গিয়েছেন এমন এক জায়গায়, যেখানে আপনার সিম কাজ করে না। এই রকম অসুবিধা অনেকেরই জানা। নেটওয়ার্কের সমস্যায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে।
কিন্তু এবার সেই সমস্যার সমাধান হতে যাচ্ছে। বাজারে আসতে চলেছে এমন একটি ফোন, যার মাধ্যমে মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই কথা বলা যাবে। এটি কোনো সাধারণ স্মার্টফোন নয়, বরং স্যাটেলাইট ফোন, যা সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কাজ করে। ফলে যেখানে মোবাইল টাওয়ার নেই, সেখানে থেকেও আপনি সহজেই যোগাযোগ করতে পারবেন।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল ইতিমধ্যেই এই বিশেষ ফোনটি লঞ্চ করেছে। তবে এটি সবাই ব্যবহার করতে পারবেন না। ভারতে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের জন্য ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনস (DoT)-এর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুনঃ কর্মীদের ত্যাগের মূল্য কোথায়?
সাধারণ মোবাইল ফোন যেমন কাছাকাছি মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে, তেমনি এই ফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকলেও, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল কিংবা সমুদ্রের মাঝখান থেকেও কথা বলা সম্ভব হবে।
বিএসএনএল জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই ফোন অত্যন্ত কার্যকর। আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট পরিষেবা সংস্থা Inmarsat-এর সহযোগিতায় এটি তৈরি হয়েছে।
বিএসএনএলের স্যাটেলাইট ফোনের গুরুত্বপূর্ণ ফিচার
- মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ
- দুর্গম এলাকা থেকেও ভয়েস কল করার সুবিধা
- জরুরি অবস্থার জন্য SOS সাপোর্ট
- দীর্ঘক্ষণ ব্যাটারি ব্যাকআপ
এই ফোন মূলত যাদের প্রয়োজন অতিরিক্ত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ, যেমন—প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, সমুদ্রপথে কর্মরত ব্যক্তি, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, খনি শিল্পের কর্মী এবং দুর্গম তীর্থযাত্রীদের জন্য তৈরি।
তবে এই ফোনের দাম—১ লক্ষ ৩৪ হাজার ১৬৬ টাকা। আর কেনার আগে অবশ্যই DoT-এর অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বা বহন করলে আইনি পদক্ষেপ হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য, বিএসএনএল শুধু স্যাটেলাইট পরিষেবা নয়, দেশজুড়ে তাদের 4G পরিষেবাও দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। ইতিমধ্যেই ৯৯ হাজারের বেশি 4G সাইট চালু হয়েছে এবং আরও নতুন টাওয়ার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থাৎ, যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে, যেখানে দুর্যোগ, দুর্গমতা আর নেটওয়ার্ক সমস্যাকে হার মানাতে পারে এই নতুন প্রযুক্তি।


