আবার নতুন করে সংঘাত শুরু ইরান-আমেরিকার। স্বাভাবিকভাবেই ফের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এলপিজি-পেট্রোল-ডিজেলের সরবরাহ নিয়েও। আবার জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেবে না তো? আবার দাম বাড়বে না তো? কারণ ইরান-আমেরিকা সংঘাত যখন শুরু হয়েছিল, তখন এমনই হয়েছিল।
আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনার মাঝে ফের একবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করেছে ইরান। তবে তেহরানের সে দাবি ফুৎকারে উড়িয়ে রবিবার আমেরিকা জানিয়ে দিল, ‘হরমুজ প্রণালী ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নৌচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। এবং নৌ চলাচল বহাল রাখতে মার্কিন বাহিনী পুরোদমে প্রস্তুত।’
আরও পড়ুনঃ লেকটাউনে বেহুঁশ করে ধর্ষণ! গ্রেফতার গৃহশিক্ষক
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে রবিবার এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তা দেওয়া হয়েছে, ‘জ্বালানি পরিবহণের জন্য আইনসম্মতভাবে আন্তর্জাতিক এই জলপথ হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য উন্মুক্ত। যে কেউ এই জলপথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে। ইরানের অযাচিত আগ্রাসন, হয়রানি, হুমকি এবং খেয়ালখুশি মতো ঘোষণা করলেও তাতে বিশেষ ফল হবে না। নৌচলাচলের স্বাধীনতা যাতে বজায় থাকে, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরান এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করে না। এখানে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।’ ইরানের হুঁশিয়ারিকে হেলায় উড়িয়ে মার্কিন সেনা আরও জানিয়েছে, ‘গত সাত দিনে ১৪০টিরও বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে এবং গত দুই মাসে মার্কিন বাহিনীর সহায়তায় ৪০০ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী ৮০০টিরও বেশি জাহাজ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে যাতায়াত করেছে।’
-
- ইরান রবিবার ঘোষণা করেছে হরমুজ প্রণালী বন্ধের কথা।
- আমেরিকার ওপর হামলার পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
- আমেরিকা দাবি করছে এখনও হরমুজ প্রণালী খোলা রয়েছে, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
-
- ভারতের তেল ও জ্বালানির ৮০% আমদানি বিদেশ থেকে হয়।
- বিশ্বের তেলের প্রায় ৭০% হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে।
- সংঘাতের কারণে সরাসরি ভারতের ক্রুড তেল আমদানিতে এখন পর্যন্ত বড় প্রভাব পড়েনি।
-
বিভিন্ন উৎস থেকে তেল আমদানি:
- ভারত এখপূর্ববর্তী এলপিজি সঙ্কট:
- পূর্বে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের ফলে ভারতের এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল।
- সরকার তখন এলপিজি বণ্টনের নিয়ম কঠোর করেছিল।
- এখন এলপিজি সঙ্কট অনেকটাই কাটিয়েছে।
-
- হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবর নতুন করে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
- বিকল্প শিপিং রুট ও উৎস কম থাকায় যদি মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট বাড়ে, তাহলে ভারতের গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা হতে পারে।
-
- আরও পড়ুনঃ মাঝরাতে ব্যাংককের পাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড
-
- ইরান-আমেরিকার সংঘাত যখন শুরু হয়েছিল, তখন ভারতে এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল। অনেকেই আতঙ্কে বেশি করে এলপিজি সিলিন্ডার কিনে নিয়েছিলেন। বাধ্য হয়ে সরকারকে এলপিজি বন্টন ও সরবরাহের নিয়ম কঠোর করতে হয়। দুই সিলিন্ডার বুকিংয়ের মাঝে ব্যবধান বাড়ায়। বর্তমানে এই সঙ্কট অনেকটাই মিটে গিয়েছে। তবে নতুন করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের খবরে ফের একবার চিন্তা বেড়েছে এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ নিয়ে, কারণ এর বিকল্প খুবই কম। মধ্য প্রাচ্যে সঙ্কট দেখা দিলে বা শিপিং রুটে সমস্যা হলে ভারতের গ্যাসের ভাঁড়ারেও টান পড়তে পারে।