বিশেষ পরিবেশ ও বিজ্ঞান প্রতিনিধি:
বহু বছর বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না দেখলেও কলকাতার মাটির নিচে জমা হচ্ছে সুবিশাল শক্তি। ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, কলকাতা শহরটি ‘ইন্ডো-বার্মা সাবডাকশন জোন’ নামক অত্যন্ত সক্রিয় একটি টেকটোনিক চ্যুতিরেখার (Fault Line) কাছে অবস্থিত। মিয়ানমারজুড়ে ঘনঘন ভূমিকম্পের পেছনে যে টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া দায়ী, সেই একই ভূ-তাত্ত্বিক কাঠামো মাটির নিচ দিয়ে বিস্তৃত রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও প্রতিবেশী বাংলাদেশ পর্যন্ত।
দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে বড় কোনো ভূমিকম্প না হওয়ায় ভূ-গর্ভে প্রতিনিয়ত শক্তি জমা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে রিখটার স্কেলে ৭ থেকে ৮ মাত্রার এক বিধ্বংসী কম্পনের জন্ম দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গোপসাগরে গভীর নিম্নচাপ, তবুও দক্ষিণবঙ্গে ঝলমলে রোদ! নেপথ্যে প্রকৃতির “ছদ্মবেশ”?
কলকাতার ভূ-তাত্ত্বিক ঝুঁকি ও মূল কারণসমূহ
বিজ্ঞানী ও ভূ-তাত্ত্বিকদের দেওয়া ঝুঁকির প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| ঝুঁকির বিষয় | বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব |
| টেকটোনিক কাঠামো | ‘ইন্ডো-বার্মা সাবডাকশন জোন’-এর সংযোগস্থলে অবস্থান, যা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত। |
| জমা হওয়া শক্তি | দীর্ঘকাল বড় মাপের ভূ-কম্পন না হওয়ায় ভূ-গর্ভে ৭ থেকে ৮ মাত্রার শক্তি সঞ্চিত হয়ে রয়েছে। |
| পলিমাটি ও ‘লিকুইফ্যাকশন’ | গঙ্গাবক্ষ ও বদ্বীপ অঞ্চলের নরম পলিমাটির কারণে কম্পনের তীব্রতা বহু গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা মাটির তরলীকরণ বা ‘লিকুইফ্যাকশন’ ঘটায়। |
| অবকাঠামোগত সংকট | অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ঘনবসতির কারণে মিয়ানমারের চেয়েও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। |
আরও পড়ুনঃ দীর্ঘ অন্তরালেই চিরঘুমে চলে গেলেন চিরঘুমে ‘কলকাতার রেখা’ মিঠু মুখোপাধ্যায়
লিকুইফ্যাকশন ও অবকাঠামোগত সতর্কতা
ভূ-তাত্ত্বিকদের মতে, কলকাতার ভৌগোলিক অবস্থান প্রধানত গঙ্গাবংশের নরম পলিমাটির ওপর। ভূ-কম্পনের সময়ে এই ধরণের মাটিতে ‘লিকুইফ্যাকশন’ বা তরলীকরণ প্রক্রিয়া ঘটে, যেখানে শক্ত মাটি জলের মতো নরম ও তরল হয়ে পড়ে। এর ফলে বহুতল ভবন, সেতু ও রাস্তাঘাট মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়।
মিয়ানমার বা হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে ভূ-কম্পন হলে তার প্রভাব কতখানি ভয়াবহ হতে পারে, এই সমীক্ষা তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শহরের সমস্ত বহুতল নির্মাণে ‘ভূমিকম্প নিরোধক’ (Earthquake Resistant) প্রযুক্তি মেনে চলা এবং আপৎকালীন দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।


